দৌলতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকট

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৩

ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

 তজম্মুল আলী রাজু, বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি চিকিত্সক শূন্যতাসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত রয়েৃেছ। ফলে চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

এদিকে, দৌলতপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে লোকবল সংকট রয়েছে। কেন্দ্রে ৬টি পদের মধ্যে ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কোয়ার্টারের বেহাল অবস্থা হওয়ায় কোনো স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন না। কেন্দ্রের পরিদর্শিকা জানান, এই কেন্দ্রটির আবাসিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় এখানে থাকা সম্ভব নয়। 

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দৌলতপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকাবাজারের অদূরে ও ইউনিয়ন পরিষদের কিছুটা সামনে অবস্থিত দৌলতপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। কেন্দ্রটি নির্মাণের পর আর কোনো সংস্কার হয়নি। বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে কেন্দ্রটিতে। উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি ছোটো। এ কেন্দ্রে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। যানবাহন নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর। হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায় ৬-৭ রোগী রয়েছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিদর্শিকার রুমে আরো দুইজন রোগী রয়েছেন। তাদের তিনি চিকিত্সা প্রদান করছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন থেকে একজন চিকিত্সক সপ্তাহের মধ্যে এক-দুই দিন আসেন। কিছুসময় থেকে আবার চলে যান। তাছাড়া কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার রাস্তাটি ছোটো হওয়ায় রোগীরা যানবাহন নিয়ে যেতে পারেন না। যার ফলে অনেকেই হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী রিফা বেগম বলেন, চিকিত্সার কিছুটা মানভালো হলেও হাসপাতালের রাস্তা দিয়ে গর্ভবতী রোগী নিয়ে আসাটা খুবই ঝুঁকির। 

দৌলতপুর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিদর্শিকা সুলতানা বেগম বলেন, প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগী আসেন। তবে কেন্দ্রের রাস্তাটি ছোটো ও সংস্কারের কারণে গর্ভবতী নারীদের চিকিত্সা নিতে পোহাতে হয় দুর্ভোগ। দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী বলেন, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে করা হয়। তবে রাস্তা বড়ো করার জন্য উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের লোকবল সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ছয়টি পদের মধ্যে চারটি পদই শূন্য রয়েছে। শূন্য পদগুলোর মধ্যে একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন অফিস সহায়ক ও পিয়ন পদটি শূন্য। জনবল সংকটের কারণে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার শিরিন আক্তার। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লোকবল সংকটের বিষয়টি জানিয়েছি।