সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১ হাজার ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৬টির ভবন অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। এরপরও ঐসব ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১ হাজার ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে পুনর্নির্মাণযোগ্য, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সদর উপজেলার ১৪টি, কালিগঞ্জ উপজেলার ১৭টি, কলারোয়ার ১৪টি, তালার ১৩টি, আশাশুনির ছয়টি, দেবহাটার তিনটি ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৯টি বিদ্যালয়ের ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি টিনশেডের মধ্যে দুটি শ্রেণির ক্লাস চলছে। এই বিদ্যালয়ের মূল ভবনের চারদিকের দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নেবাখালী সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফয়জুল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশাশুনি উপজেলার বৈকারঝুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো একইভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় এসব বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে কিংবা বারান্দায় পাঠদান চলছে। একইভাবে সদর উপজেলার বাঘডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারি হওয়া এই বিদ্যালয়ে কোনো পাকা ভবন নেই। বাঁশ, খুঁটি, কাঠ ও টিন দিয়ে ঘর বানিয়ে সেখানে ক্লাস চলছে। ঘরের চালের টিন সম্পূর্ণ নষ্ট। বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এই স্কুলের পুরো কাঠামো। এমনিভাবে জেলার অনেক স্কুলে ভবন না থাকায় শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে এবং বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে।
অভিভাবক মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার ছেলে শিশু শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। ওদের কোনো ক্লাসরুম নেই। সেজন্য কখনো গাছের নিচে কখনো খোলা আকাশের নিচে পড়ানো হয়। আমার আরেক ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সবসময় ভয়ে থাকি।
শাল্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত কর্মকার বলেন, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। ১৯৯৫ সালে আমরা একটি ভবন পেয়েছিলাম। ২০১৪ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবন সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে ১৫ বছর আগের পরিত্যক্ত একটি টিনের শেড মেরামত করে সেখানে ক্লাস নিচ্ছি। এখানে বৃষ্টির সময় পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই ভিজে যায়। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে অথবা গাছতলায় ক্লাস নিতে হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জরাজীর্ণ ভবন সম্পর্কে জানতে চেয়ে আমাদের চিঠি দিয়েছে। জেলার ১ হাজার ৯৪টি বিদ্যালয়ের ভবনের মধ্যে জরাজীর্ণ ৮৬টি স্কুল অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও অনেক সময় সেটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হয় না। তারপরও প্রতিনিয়ত জেলা এবং উপজেলা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাই।
