‘শরত্ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৬

 ‘শরত্ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি। শরত্ তোমার শিশির ধোয়া কুন্তলে.., বনের-পথে লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে আজ প্রভাতের হূদয় ওঠে চঞ্চলি...।’ শিল্পীর কণ্ঠে এ গান প্রকৃতি জুড়ে সত্যি হয়েই দেখা দিয়েছে। আশ্বিন যায় যায়, আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। শিশিরসিক্ত পথেঘাটে শিউলির ঘ্রাণ মন চঞ্চল করে তোলে। আকাশ আড়াল করা উঁচু উঁচু ইমারতের ফাঁক গলে ঋতুকাল শরত্ নগরজীবনে তার আগমনী রূপের দেখা দিতে পারুক আর না-ই পারুক, প্রকৃতিতে শরত্ তার স্পর্শ দিতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। সাদা মেঘের ভেলায়, কাশবনের দোলায় পালটে গেছে প্রকৃতির রূপ। চলতি পথে আচমকা ভেসে আসা শিউলি ফুলের গন্ধ মন ভরিয়ে দেয়। থমকে যায় পা। মনে করিয়ে দেয় ঋতুকাল শরত্ আগমনের কথা।

গতকাল শুক্রবার ভোরে চারুকলার বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করে শরত্ বরণ অনুষ্ঠান। মেয়েরা সাদা রঙের শাড়ি, খোঁপায় শিউলি ফুলের মালা, ছেলেরাও সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরে জমিয়ে তোলে অনুষ্ঠানস্থল। নগরজীবনের এই কোলাহলে মানুষ নিষ্প্রাণ, হিসাবি, প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন। প্রকৃতিকেন্দ্রিক এই উত্সবগুলোতে তাই আমরা প্রকৃতির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে মিলতে চাই। নিজেকে নতুন করে চিনে নিই, মিলিয়ে নিই, প্রীতির বন্ধনে। সেই মিলবার তাগিদে শিল্পীদের গানে সুর মিলিয়ে বাঙালি আমন্ত্রণ জানাল সজীব প্রাণময় প্রকৃতিকে।

সকালে শরত্ কথন পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনায় অংশ নেন সত্যেন শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট ও অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি, রবীন্দ্রগবেষক, কবি ও লেখক অধ্যাপক ড. হায়াত্ মামুদ। অতিথিরা বলেন, বাংলার প্রকৃতি, বাঙালির সংস্কৃতির লালন জীবনেরই সাধনা। পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন যেমন ছায়ানটের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেছে, তেমনিভাবে ঋতুকেন্দ্রিক আয়োজনগুলোও ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই আমাদের চাওয়া। সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন।

ভোরে শিল্পী অসিত বিশ্বাসের এসরাজ-বাদনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় শরত্ উত্সবের। উত্সবে একক সংগীত পরিবেশন করেন সালমা আকবর, বিশ্বজিত্ রায়, অনিমা রায়, মামুন জাহিদ খান, তানভীর সজিব, রত্না সরকার, আবিদা রহমান সেতু ও মাহমুদা মৌমিতা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস, নৃত্যজন ও স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন আহকাম উল্লাহ ও নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সুর ও বিহার, বহ্নিশিখা, পঞ্চভাস্কর, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, গীতাঞ্জলি ও ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। এছাড়া সকালে ছিল শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

বিকেলের পর্বে দলীয় সংগীতে অংশগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, উদয়ন, উজান, সুর সাগর ললিতকলা একাডেমি ও সমস্বর। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, স্কেচ, আঙ্গীকাম ও বেনুকা ললিতকলা একাডেমি। দলীয় আবৃত্তি—মুক্তধারা সংস্কৃতি ও আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, একক আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন ইকবাল খোরশেদ জাফর, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, রেজীনা ওয়ালী লীনা, ফয়জুল আলম পাপ্পু, জহিরুল আলম, আহসান তমাল ও আজিজুল বাশার মাসুম। একক সংগীতে অংশগ্রহণ করেন মহাদেব ঘোষ, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সরদার রহমত উল্লাহ, খগেন্দ্রনাথ সরকার, আকরামুল ইসলাম, খন্দকার মুজিবুল কাইয়ুম, তানজিলা তমা, শাহনেওয়াজ পারভীন ইলা, তামান্না নিগার তুলী, সমর বড়ুয়া, পল্লব গোমেজ, সানজিদা মঞ্জুরুল হ্যাপি, রাবেয়া আক্তার, শ্রাবণী গুহ রায়, মীরা মণ্ডল, এস এম মেজবাহ, মাহমুদা তাবাস্সুম বৃষ্টি, নবনীতা জাইদ চৌধুরী অনন্যা, আনজুমান ফেরদৌস কাকলি, তাহমিনা খন্দকার মুক্তি, মিজানুর রহমান আজাদ, জীবন চৌধুরী, মতিউর রহমান, সেলিম, রকিবা খান লুবা ও সৌমক সাহা ধ্রুব।