টেস্ট শুরুর আগেই আলোচনায় ছিল স্পিন। আর স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন এই সময়ের সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান।
যদিও বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, তারা রশিদকে নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেই রশিদই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য ভয়ানক ভাবনার কারণ হয়ে উঠলেন। ব্যাটসম্যানদের দায়হীন ব্যাটিং আর রশিদের ভয়ানক বোলিং বাংলাদেশ দলকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। রশিদ ব্যাট হাতে ফিফটি করে আফগানিস্তানকে এনে দিয়েছিলেন ৩৪২ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাবে ব্যাট করতে নেমেই ধসের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেটে ১৯৪ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। রশিদ খান ৪৭ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এর আগে ৫ উইকেটে ২৭১ রান নিয়ে দিন শুরু করে আফগানিস্তান। সকাল বেলায় প্রথম উইকেট তুলে নিতে খুব একটা সময় নেননি তাইজুল। ১৭৪ বলে ৯২ রান করা সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগানকে ফেরত পাঠান তিনি। ৪১ রান করা আফসার জাজাইকেও বোল্ড করেন তাইজুল। খুব দ্রুত শেষ দিকে উইকেট যাওয়াতে রানটা আরো কম হবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু আফগান অধিনায়ক রশিদ খান নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেন। তিনি মারকুটে মেজাজে খেলতে থাকেন। মাত্র ৬১ বলে দুইটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৫১ রান করে ফেরেন রশিদ। ফলে অলআউট হওয়ার আগে ৩৪২ রান করে ফেলে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাইজুল গতকাল আরো দুইটিসহ মোট ৪ উইকেট নেন। সাকিব তুলে নেন ২ উইকেট। আর আগের দিনই ২ উইকেট নিয়েছিলেন নাঈম হাসান।
জবাব দিতে নেমে একেবারে প্রথম ওভার থেকেই বাংলাদেশের লজ্জার শুরু। ইনিংসের চতুর্থ বলে ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে কোনো রান না করেই ফিরে আসেন সাদমান ইসলাম। সৌম্য সরকার ফেরেন ১৭ রান করে। এখান থেকে লিটন দাসকে নিয়ে ইনিংস বড়ো করার চেষ্টা করছিলেন মুমিনুল হক। ৩৩ রান করা লিটনকে ফেরান রশিদ। এই পর্যায়ে আরো ৩ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ দলকে খাদের কিনারে ঠেলে দেন রশিদ খান।
বাংলাদেশের উইকেট হারানোর মহড়ায় যতটা না আফগান বোলারদের কৃতিত্ব তার চেয়ে বেশি দায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। একপ্রান্তে মারকুটে ইনিংস খেলা মুমিনুলও তুলে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ নবীর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। আউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৫২ রান করেন মুমিনুল।
আফগান বোলার কায়েস আহমেদ উইকেট শিকারের উত্সবে যোগ দিলে ১৪৬ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এখান থেকে তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে মান বাঁচানোর লড়াই করছেন মোসাদ্দেক হোসেন। মোসাদ্দেক ৭৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত আছেন। তাইজুল অপরাজিত ৫৫ বলে ১৪ রান করে।
