জাপার দ্বন্দ্বে কারো পক্ষ নেবে না আওয়ামী লীগ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টির (জাপা) টানাপোড়েনে আওয়ামী লীগের কিছু বলার বা করার নেই। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। জাপার অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই আওয়ামী লীগের। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে যুবলীগ আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি          এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, তাদের দলে কে চেয়ারম্যান হবেন, কে বিরোধী দলের নেতা হবেন—এটা তারাই নির্ধারণ করবেন। আওয়ামী লীগ এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন—সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কোনো পক্ষপাত নেই।

‘সরকার যাকে চাইবেন তিনিই বিরোধীদলীয় নেতা হবেন’ মর্মে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা মিথ্যা কথা। নিয়ম অনুযায়ী যিনি বিরোধীদলীয় নেতা হবেন, স্পিকার তাকেই নির্বাচিত করবেন। এখানে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যতই বিষোদ্গার করুক, আজকে এটাই বাস্তবতা যে, উন্নয়নে অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। নেতিবাচক রাজনীতি করে বিএনপির এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। তিনি বলেন, এই সংকটের কারণেই বিএনপি বেহাল, পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে, দেশের বদনাম করছে। এর মাধ্যমে তারা দেউলিয়া ও হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের ১৬ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। আজ মনোনয়ন বোর্ডের সভা। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ প্রার্থিতায় নেই। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী ঠিক করব।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু রাজনীতিবিদই নন, এক জন দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালক (স্টেটম্যান)। যিনি আগামী প্রজন্মের কী হবে সেটা নিয়ে ভাবেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন। তিনি বলেন, কর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনার যে মমতা এবং ভালোবাসা তা অতুলনীয়। আমি অসুস্থ থাকা অবস্থায় আমার জন্য শেখ হাসিনা যা করেছেন, তা আমার মায়ের থেকে কোনো অংশেই কম নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ আইএমএফও বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ প্রথম স্থানে আছে। দেশের প্রবৃদ্ধি ৮.২ হয়েছে। এটা আগামী দিনে আরো বাড়বে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। আসন্ন ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন মাসব্যাপী ‘জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করবে ঢাকা মহানগর যুবলীগ। এ উপলক্ষ্যে যুবলীগের মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি ওয়ার্ডে জনগণের ক্ষমতায়ন সম্পর্কে আলোকপাত, শেখ হাসিনার জীবন ও সংগ্রাম এবং তার রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি নিয়ে লিফলেট এবং বুকলেট প্রকাশ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনগুলোর প্রকাশ এবং প্রচার উল্লেখযোগ্য।