আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে দল-জোট মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর জন্য নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার মনোনয়ন বঞ্চিত ৩৭৮৩ জনের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান। নির্বাচনে নিজ দলের যারা বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চিঠিতে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আপনারা মহাজোটকে বিজয়ী করতে কাজ করুন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবন্ধ থাকে, তাহলে নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি আর কারো নেই। নৌকাকে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, গতকাল শনিবার ডাকযোগে মনোনয়ন বঞ্চিতদের কাছে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে শেখ হাসিনা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল মনোনীত প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে কাজ করার অনুরোধ জানান। এখনো যেসব দলীয় বিদ্রোহী নেতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সংগঠনের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডে আবেদন করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ এই জনপদের একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন। এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগঠন আওয়ামী লীগ। দলটির সব সাংগঠনিক কার্যক্রমের মতো যেকোনো নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাছাই প্রক্রিয়াও পরিচালিত হতো একটি সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। দলের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যগণের সুচিন্তিত অভিমত, তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ এবং আমাদের সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত একাধিক নিবিড় জরিপ কার্যক্রমের সুপারিশের ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।
দলের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশী সবার গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়ে চিঠিতে শেখ হাসিনা লিখেছেন, আপনি জানেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে চার হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের প্রায় সবারই অবদান রয়েছে। ত্যাগ, দক্ষতা, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার বিচারে প্রায় প্রত্যেকটি আসনেই ছিল একাধিক যোগ্য প্রার্থী। একাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে একজনকে প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করার কাজটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ। আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি আবেদনপত্রের তথ্য ও মাঠপর্যায়ে জরিপের ফল পর্যালোচনা করে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া ও সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী রাজনৈতিক দলে পরিণত করার জন্য আপনার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও দেশের কল্যাণে ভূমিকার জন্য আপনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতি আপনার ভালোবাসা, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা আগামীতেও থাকবে।
আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে চিঠিতে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের হিংস্র থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে বাংলাদেশের টেকসই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আমরা সমমনা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনার কাছে বিশেষ অনুরোধ, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে আপনার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মহাজোটকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেবেন। আপনার ত্যাগ, শ্রম ও আন্তরিকতা সবকিছু আমাদের বিবেচনায় আছে।
