মুহিত আহমেদ জামিল
ফার্স্ট ইয়ার
v পুরো ব্যাচের সবাই মিলে ক্যাম্পাসে একসাথে চলাফেরা করে। টংয়ে যায় একসাথে, এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে ক্লাস করতে যায় একসাথে, সিনিয়রদের ডাক পড়লেও একসাথেই যায়।
v খুব বেশি গ্রুপ ছবি তোলে।
v গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো থাকে।
v পুরো ব্যাচের সবাই মিলে জটলা বাঁধিয়ে ক্লাসমেটদের বার্থডে সেলিব্রেট করে।
v কেউ ডেকে কিছু বলতে গেলেই কথা শুরু করে এভাবে, দভাইয়া, আসসালামু-আলাইকুম। আমি অমুক। তমুক ডিপার্টমেন্ট। ফার্স্ট ইয়ার, ফার্স্ট সেমিস্টার। দেশের বাড়ি...
v প্রতিটা সাবজেক্টের জন্য এরা আলাদা আলাদা নোট খাতা বানায়।
v গান, সাহিত্য, নাটক, বিতর্ক, ল্যাঙ্গুয়েজ, রোবটিক্স, আইসিটি—ভার্সিটির সব ধরনের ক্লাবের সদস্য হওয়ার প্রতিই এরা আগ্রহ দেখায়। টাকা খরচ করে একেকজন চার-পাঁচটা ক্লাবের মেম্বার ফরমও কিনে ফেলে।
v ভার্সিটি এবং নিজের ডিপার্টমেন্টের নাম-লোগো লেখা টি-শার্ট কেনা অথবা বানানোর প্রতি এদের প্রবল আগ্রহ থাকে।
v প্রেমের বাজারে ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেরা মোটেই পাত্তা না পেলেও, সিনিয়র ভাইদের কাছে নতুন মেয়েদের ডিমান্ড থাকে খুব বেশি।
v সদ্যই অ্যাডমিশন টেস্টের মতো প্রতিযোগিতায় পাস করে ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার কারণে এদের আত্মবিশ্বাস এবং মোটিভেশন লেভেলটা বেশ উঁচু রকমের হয়। এরা একইসাথে ভার্সিটি লাইফে ‘এই করব, সেই করব’ বলা স্বপ্নবাজ এবং ভবিষ্যত্ নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী শ্রেণির তরুণ-তরুণী।
v নিজের ভার্সিটি কিংবা ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এরা খুব গর্ব করে।
সেকেন্ড ইয়ার
v এদের সাথে যে কোনো বিষয়েই কথা বলতে গেলে শেষটায় এসে উপসংহার দাঁড়াবে, এত সিরিয়াসনেস দেখিয়ে লাভ নাই। জীবন উপভোগ করাটাই আসল। লাইফে চিল করতে হবে প্রচুর।
v এরা লাইব্রেরি থেকে নিজের টাকা দিয়ে নতুন বই কেনার চেয়ে সিনিয়রদের কাছ থেকে বই ধার নেওয়াতেই বেশি এগিয়ে।
v বেশভূষা সাধারণ থেকে আস্তে আস্তে অসাধারণ হতে শুরু করে। চুল লম্বা, হাতে রিস্টব্যান্ড, গায়ে ক্লাব/ভার্সিটির টি-শার্ট পরা থাকে। চলাফেরা মুক্ত স্বাধীন পাখিদের মতো হয়। ক্যাম্পাসের প্রতিটা অলিগলিতে এদের বিচরণ লক্ষ করা যায়।
v ডিপার্টমেন্ট কিংবা ক্লাবের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে মারাত্মক আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।
v প্রতিটা বিষয়ের জন্য আলাদা নোট খাতা বানানো বাদ দিয়ে, মাত্র একটা ইউনিভার্সিটি খাতাতেই সেমিস্টার পার করে দেওয়ার থিওরি আওড়াতে শুরু করে।
v ফেসবুকের এডমিশন গ্রুপগুলোতে এদের খুব অ্যাক্টিভ দেখা যায়। ‘ভার্সিটিতে চান্স পেতে হলে কিভাবে কী করতে হবে’ এই বিষয়ে এরা ভালোই পরামর্শ অথবা মোটিভেশন দিতে পারে।
v ফার্স্ট ইয়ারে নতুন ভর্তি হওয়া জুনিয়র মেয়েদের প্রতি এরা বিশেষ দুর্বল থাকে।
v এরা খুব বেশি গ্রুপ স্টাডি করে।
v পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করলে বরাবরই এরা নেক্সট সেমিস্টারে ফাটিয়ে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে। যদিও এদের নেক্সট সেমিস্টার কোনোদিনই আসে না।
থার্ড ইয়ার
v এদের খুব বেশি কনফিউশনে ভুগতে দেখা যায়। এরা না হতে পারে পড়াশোনা-ক্যারিয়ার নিয়ে সিরিয়াস, আবার না করতে পারে ঠিকমতো চিল।
v ভার্সিটি কিংবা ক্লাবের বিভিন্ন প্রোগ্রামে পার্টিসিপেট করার চাইতে প্রোগ্রাম আয়োজনের প্রতিই এদের বিশেষ মনোযোগ থাকে।
v ভার্সিটির বিভিন্ন ক্লাবের নিম্ন এবং মধ্যস্তরের পদের মানুষ এরা।
v ফার্স্ট ইয়ারে আসা মেয়েদের ব্যাপারে এদের ভালোই আগ্রহ থাকে সত্য; কিন্তু নিচে আরো জুনিয়র ব্যাচ থাকায় এবং পূর্বের পটাতে না পারার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে সুন্দরীদের হাই, হ্যালো কম করে। ফেসবুকে রিকোয়েস্ট কম পাঠায়।
v সিজিপিএ, পরীক্ষা পদ্ধতি, কিভাবে লিখলে মার্কস বেশি পাওয়া যাবে, কোন স্যারের কোর্সে কেমন পড়ায়, কেমন লিখলে মার্কস দেয়—এসব বিষয়ে ভালো জানাশোনা থাকে।
v বিভিন্ন ক্লাব ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল সেক্রেটারি হওয়ার জন্য এরা খুব বেশি কামলা খাটে।
v ভার্সিটি নিয়ে প্রথমদিকে যে রকম মোটিভেটেড থাকে, আস্তে আস্তে সেটা কমতে শুরু করে। হতাশাবাদীর সংখ্যা ক্রমশই বাড়তে থাকে।
v এককালে নিয়মিত পড়ালেখা করলেও এই সময়ে এসে তারা পরীক্ষার আগের রাতে সিলেবাস শেষ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ডেড লাইনের আগের রাতেই অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন রেডি করে।
v আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তঃবিভাগ ইত্যাদি নাম দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এরা দারুণ আগ্রহ দেখায়।
ফোর্থ ইয়ার
v বিভিন্ন ক্লাব, অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, জেনারেল সেক্রেটারি সবচেয়ে বেশি থাকে এই ইয়ারে। এরা ভার্সিটির মোস্ট সিনিয়র ব্যাচ। সহজ ভাষায় জাতীয় ভাই-আপুদের ব্যাচ।
v সালাম দেওয়ার চেয়ে সালাম পাওয়াতেই এদের আগ্রহ বেশি থাকে।
v একাডেমিক পড়াশোনার চেয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে এদের মাথাব্যথা বেশি হয়।
v সিজিপিএ নিয়ে এদের মধ্য বেশ টেনশন লক্ষ করা গেলেও পড়াশোনা তারা আগের মতোই করে।
v এই ইয়ারের মানুষগুলো পড়াশোনা-ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ভালো পরিকল্পনা করতে পারলেও, সত্যিকার অর্থে মাঠে কাজ করতে নামার ব্যাপারে এরা খুব বেশি অলস হয়।
v এদের বেশিরভাগেরই গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ড থাকে। যাদের থাকে না, তারা সাধারণত চির সিঙ্গেল হয়। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজই তাদের ভরসা।
v বন্ধুদের এরা বন্ধু ভাবার চেয়ে সাপ ভাবতেই বেশি পছন্দ করে।
v গ্রুপ ছবি তোলে খুব কম। গ্রুপ স্টাডিতেও এদের আগ্রহ থাকে না।
v ডিপার্টমেন্ট কিংবা ক্লাবের কোনো প্রোগ্রাম আয়োজনে এরা পরামর্শ এবং নেতৃত্ব দেয়। মাঠ পর্যায়ের আসল কাজ করে জুনিয়ররা।
v এরা বেশ হতাশাবাদী হয়।
v বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের বলা এদের সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহূত বাক্য হলো, ‘এই তো, মাত্র তো আর কয়টা দিন। তারপর শেষ হয়ে যাবে।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
