সত্যজিত্ বিশ্বাস
চাকরি থাকব?
পুলিশ ইন্সপেক্টার :এই যে এত চুরি-ছ্যাঁচড়ামি করো, খারাপ লাগে না?
চোর :লাগে না আবার? খুব লাগে। মাঝেমধ্যে তো ইচ্ছা হয় এইসব ছাইড়াই দেই।
পুলিশ ইন্সপেক্টার :তাহলে ছেড়ে দাও না কেন?
চোর :আবার যখন আপনাগো কথা মনে পড়ে, তখন আর ছাড়তে পারি না।
পুলিশ ইন্সপেক্টার :তার মানে?
চোর :দেশ থেইকা যদি চুরি ছ্যাঁচড়ামি সব উইঠা যায়, আপনাগো চাকরি থাকব? আর চাকরি না থাকলে খাইবেন কী? চলবেন কেমনে?
একটা বই কিনতে চাইলাম বলে :১
প্রথম বন্ধু :কীরে মন খারাপ করে বসে আছিস যে?
দ্বিতীয় বন্ধু :মেডিকেলের একটা বই কেনার জন্য বাবাকে টাকা পাঠাতে বলেছিলাম। বাবা উল্টো ধমকে দিয়ে বলল, যথেষ্ট পড়ালেখা হয়েছে, আর লাগবে না। এবার বাড়ি ফিরে আয়।
প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব? একটা বই কেনার কথা শুনে কেন এটা বলবে?
দ্বিতীয় বন্ধু :সত্যি বলছি। বইটার জন্য টাকা চাওয়া মাত্রই বাবা এটা বলল।
প্রথম বন্ধু :বইটার দাম কত ছিল রে?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন? ৮৫,৫০০ টাকা।
একটা বই কিনতে চাইলাম বলে :২
প্রথম বন্ধু :কীরে মন খারাপ করে বসে আছিস যে?
দ্বিতীয় বন্ধু :মেডিকেলের একটা বই কেনার জন্য বাবাকে টাকা পাঠাতে বলেছিলাম।
প্রথম বন্ধু :তো, কী হয়েছে? তোর বাবা টাকা পাঠায়নি?
দ্বিতীয় বন্ধু :আরে না, মেজাজটা কেমন লাগে বল?
প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব! পড়ার বই কেনার কথা শুনেও টাকা পাঠায়নি?
দ্বিতীয় বন্ধু :না। বইটা কিনে পাঠিয়ে দিয়েছে।
কী হিসেবে?
সাংবাদিক :আচ্ছা, ৫০০০ টাকা দামের বই ৮৫,৫০০ টাকা দিয়ে কেনা ব্যাপারটাকে আপনারা কী হিসেবে নেবেন?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর :কেন, প্রিন্টিং মিস্টেক হিসেবে নেব।
আমার মামা সব জানে
ভাগ্নে :আচ্ছা মামা, ‘৫০০০ টাকা দামের বই ৮৫,৫০০ টাকা দিয়ে কেনা’-এর মধ্যে কী যুক্তি থাকতে পারে?
মামা :‘কী যুক্তি’ না তো ‘কু যুক্তি’।
ওভার কোয়ালিফাইড
কোম্পানির মালিক :বিদেশে কিছু প্রতিনিধি পাঠাতে চাই। যারা ওখানে গিয়ে কোম্পানির কিছু প্রোডাক্ট বিক্রি করবে। পারবেন?
চাকরি প্রার্থী :পারব না মানে? শুধু কোম্পানির প্রোডাক্ট কেন, চাইলে কোম্পানিটাও বিক্রি করে দিয়ে আসতে পারি।
কোম্পানির মালিক :ইয়ে, আপনি দেখছি ওভার কোয়ালিফাইড। আমরা আরেকটু কম দক্ষ লোক খুঁজছি।
কিসের জন্য কী লাগে
প্রথম বন্ধু :এটা কোনো কথা হলো? পুকুর কাটার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাওয়া লাগে?
দ্বিতীয় বন্ধু :না ঠিক তা না। বিদেশ যাওয়ার জন্য অজুহাত লাগে।
কাদের থাকে, কাদের থাকে না?
ছেলে :আচ্ছা বাবা, আত্মমর্যাদা কী জিনিস?
বাবা :আত্মমর্যাদা হলো একটা মহত্ গুণ।
ছেলে :এই গুণ কাদের থাকে, কাদের থাকে না?
বাবা :ব্যাচেলরদের থাকে, বিবাহিতদের থাকে না।
ক্ষতিকারক
শিক্ষক :বল তো, ‘সুমন সিটি কর্পোরেশনে গিয়ে মশার কামড় খায়’—এ বাক্যটিতে ‘সিটি কর্পোরেশন’ আর ‘মশার কামড়’ কোন কারক?
ছাত্র :দুটোই ক্ষতিকারক স্যার। ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
বড় হয়ে কী হবি?
বাবা :কীরে এই বয়সেই চুরি করা শিখে গেছিস? বড় হয়ে কী হবি?
ছেলে :কেন, ঋণখেলাপি।
গরিব, বড়লোকের পার্থক্য
বাচ্চা :বাবা, গরিব কারা?
বাবা :যাদের টাকাপয়সার ‘অভাব’, তারা গরিব।
বাচ্চা :তাহলে যাদের টাকাপয়সার অভাব নেই, তারা বড়লোক?
বাবা :উহু। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়েও ‘খুব অভাব’-এর কারণে শোধ করতে পারে না, তারা বড়লোক।
সত্যি তো?
ভিক্ষুক :বাবা, কিছু ভিক্ষা দেন। আপনার মনের আশা পূরণ হবে।
ঋণখেলাপি (ব্যাংকের সিঁড়িতে উঠতে উঠতে) :সত্যি বলছ তো?
