আখতারুজ্জামান আশা
লোকের ভিড়ে ব্যস্ত গলি ব্যস্ত ঢাকা শহর,
নিত্য চলি চিপাচাপায় দেখি গাড়ির বহর।
আকাশছোঁয়া দালানকোঠা পাশেই দেখি ভাগাড়,
মারতে মশা ওই আয়োজন চলে কামান দাগার।
রাস্তা দেখি উপর নিচে বলছে এ ব্রিজ ওভার
সন্ধ্যাকালে কর্ম করে পকেটমারে প্রপার।
পার্কে দেখি হায়রে এ কী! বলতে লাগে শরম,
ছেলে-মেয়ের মাখামাখির উঠছে সীমা চরম।
দেখব বলে চিড়িয়া সব যাই চিড়িয়াখানায়,
অল্প পশু, মানুষ বেশি ভরা কানায় কানায়।
শুটিং দেখে মন ভরাতে এফডিসিতে গেলাম,
গার্ডকে কিছু টাকা দিয়েই অনুমোদন পেলাম।
ভিতর গিয়ে শুনতে পেলাম আজকে শুটিং নাই,
দুঃখ নিয়ে দালানকোঠার তালা গুনেই যাই।
যেই করেছি গুনতে শুরু একটা বেটা আসলো,
ধমক দিয়ে ভয় দেখিয়ে কথার প্যাঁচে ঠাসলো।
বলল বেটা, ‘দাঁড়িয়ে একা দেখছ কেন দালান?
সত্যি বলো, নইলে দেব পুলিশ ডেকে চালান।’
হায় পুলিশের নামটি শুনে পিলেই গেল চমকে,
বেটার মুখে কড়া কথায় আমি গেলাম থমকে।
আর কি দেরি যায় গো করা জলদি বলে দিলাম,
‘দাঁড়িয়ে থেকে দালানকোঠার তালা গুনতে ছিলাম।’
‘বেশ তো ভালো এবার বলো তালা গুনছ কয়টা?
তালার প্রতি দশটা টাকা দিলে কাটবে ভয়টা।’
কী আর করা ভেবে চিন্তে বলে দিলাম দশটা,
দশতালারই দিলাম টাকা বুঝুক ঠকে লসটা।
মিথ্যা কথা নয়তো ও ভাই তালা গুনছি বিশটা,
বুঝুক ঠ্যালা ঢাকার ঠকে ক্যামন খেলো মিছটা।
ভুরুঙ্গামারী, তুড়িগ্রাম।
