শেয়াল এসে মোরগ খেল, মুরগি গেল রেগে,
রাগ করে আর লাভ কী বলো, শেয়াল গেছে ভেগে।
ধরো! ধরো! শেয়াল ধরো! কুমির এলো ছুটে,
পরোয়ানা করল জাহির মগডালে সে উঠে।
অ্যারেস্ট! অ্যারেস্ট! করল অ্যারেস্ট বানরগুলো এসে,
ধরে নিয়ে গেল তারা মুরগিটাকেই শেষে—
‘সাক্ষ্য দিবি—সাক্ষী যে তুই—বলবি সবই খুলে,
শেয়ালরা সব মরবে দেখিস ফাঁসির কাঠে ঝুলে।’
বিচার হবে! বিচার হবে! আদালতে তোলো—
দিনদুপুরে খুনখারাপি কেমন কথা হলো!
বাদী! বাদী! কে সে বাদী—জাজ মহাশয় ডাকে,
ছাগল শুয়ে ঝিমুচ্ছিল—বাদী বানায় তাকে।
বলল ছাগল আদালতে তার যা ছিল বলার—
‘ওরে বাদী, করিস না তুই অত ঘোলা জল আর?
নিজের ভালো বুঝিস যদি ক্যান খামাখা জ্বালাস!
যা তো এবার, ঘুমো গিয়ে, তুই বেকসুর খালাস।’
আসামিরা একেক করে বলল তাদের কথা,
তাদের সবার করুণ মুখে সে কী আকুলতা।
আসামিদের চিনল সবাই, চিনল আদালতও
দিনদুপুরে মোরগ খাওয়া সহজ নাকি অত!
অবুঝ ওরা, আর যা করুক, খায় না পশুপাখি,
দিনদুপুরে মোরগ খাবে—গোরুছাগল নাকি!
কানদুটো কী নরম ওদের, পশম আছে লেজে,
এত কিছু থাকতে কি না পাখি খাবে ভেজে?
কিন্তু কেসের বিচার হবে, হতেই হবে বিচার,
নইলে পরে গাছের পাতায় ছাপিয়ে দেবে ফিচার।
সাক্ষ্য দিতে মুরগি এলো, কান্না দিল জুড়ে,
দুই দিকে তার পশমঅলা পাখনা দুটো ছুড়ে।
ফিট লেগে তার জড়িয়ে গেল দাঁতের দুটো পাটি—
বিচার বুঝি অবশেষে হয়ে যাচ্ছে মাটি।
জাজ মহাশয় করল বিচার, রায় দিল সে হেঁকে,
সবাই খুশি জাজের অমন বিচারবুদ্ধি দেখে।
বিচার নিয়ে সাক্ষ্যদাতার এতোই যখন শোক,
ওকেই তখন দড়ি বেঁধে ফাঁসি দেওয়া হোক।
