জাতীয় আয় বাড়লেও পিছিয়ে প্রান্তিক শ্রেণি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪

অর্থনীতি সমিতির সেমিনারে তথ্য

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে জাতীয় আয় বাড়লেও তার সুফল প্রান্তিক শ্রেণির হাতে সমানতালে যাচ্ছে না। বরং অল্প কিছু মানুষের সম্পদ বাড়ছে। ফলে দিনে দিনে আয় বৈষম্য প্রকট হচ্ছে। এ প্রবণতা বেড়ে যাওয়া সমাজের জন্য ‘বিপদ সংকেত’ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূর করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য : সমাধান কোন পথে’ শীর্ষক ঐ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এখন মাত্র ২৫৫ জন ব্যক্তির কাছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সম্পদ আটকে আছে। এক্ষেত্রে শিল্পমালিক বিশেষত গার্মেন্টস শিল্পের মালিকদের হাতে বেশিরভাগ সম্পদ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ গার্মেন্টস মালিকরাই। প্রতি বছর দেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচারকারী ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের অধিকাংশই গার্মেন্টস মালিক। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম কিংবা কানাডায় ‘বেগম পাড়া’র বাড়ির মালিকদের মধ্যেও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী, আমলা, অর্থনীতিবিদদের পরিবারের পাশাপাশি গার্মেন্টস মালিকদের পরিবারই বেশি অনুপাতে চিহ্নিত করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব কারণে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ প্রবৃদ্ধির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আয় বৈষম্য ক্রমে বাড়তে থাকার প্রবণতা দেশের আসন্ন বিপদ সংকেত। গত ৪৪ বছরে দেশে লাখ লাখ ব্যবসানির্ভর পুঁজিপতি, ঋণ আত্মসাত্কারী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, দুর্নীতিবাজ আমলা এবং সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ধনাঢ্য গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বৈষম্য বৃদ্ধির শক্তিগুলোকে শক্ত হাতে প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে জনগণের স্বার্থের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আয় ও সম্পদ বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে হলে দুর্নীতি নিরসন করতে হবে।

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, দেশে ক্রমাগত আয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে। কেবল মাথাপিছু আয় দিয়ে উন্নয়নকে বিচার করলে চলবে না। যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, তার ভাগ যেন সমাজের প্রান্তিক মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রায় সোয়া ১ কোটি মানুষের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার মার্কিন ডলারের ওপরে। অথচ কর দেন মাত্র ২০ লাখ।

ড. আবুল বারকাত সম্পদ বন্টনের ন্যায্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রকে কেবল প্রবৃদ্ধির পূজা করলে হবে না। সেই প্রবৃদ্ধি দিয়ে আসলে মানব উন্নয়ন হচ্ছে কী না তা দেখতে হবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি এ জেড এম সালেহ প্রমুখ।