ধর্মযাজকের কন্যা থেকে ইউরোপের সম্রাজ্ঞী মার্কেল

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৭

জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রাট দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। শুক্রবার ৭ই ডিসেম্বর এক আবেগময় বিদায়ী ভাষণে মার্কেল তার দেশের ভেতরে এবং বাইরে জার্মানির উদার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সুদীর্ঘকাল মার্কেল জার্মানির ক্ষমতায় আসীন। এদিকে সিডিইউ’র নতুন প্রধানের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ দলের বিভক্তি দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

নিজেকে একজন বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী নেতা হিসাবে প্রমাণ করেছেন মার্কেল। একসময় তাকে বর্ণনা করা হতো ‘জার্মানির রানি’ হিসেবে। কেউ কেউ তাকে ডাকতেন ‘ইউরোপের সম্রাজ্ঞী’ বলে। ১৮ বছর ধরে তিনি তার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরপর চার মেয়াদে দেশটির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের নেতৃত্ব ছাড়লেও চ্যান্সেলার হিসেবে চতুর্থ মেয়াদ শেষ করবেন ২০২১ সালে।

মার্কেলের ক্ষমতার শক্ত ভিত প্রথম নড়ে যায় যখন শরণার্থীদের জন্য জার্মানির উন্মুক্ত দ্বার নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে পড়তে হয়। তার এই নীতির ফলশ্রুতিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দেশটির চরম ডানপন্থীরা এবং তার দল প্রায় ৭০ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে ২০১৭ সালে। শরণার্থী নিয়ে জাতিসংঘ তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রসংসা করে। তিনি টাইম সাময়িকীতে বছরের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচিত হন এবং তাকে প্রকারান্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতা ঘোষণা করা হয়।

ধর্মযাজকের কন্যা থেকে রাজনীতির অঙ্গনে

১৯৫৪ সালের ১৭ই জুলাই জন্ম জার্মানির হামবুর্গ শহরে অ্যাঙ্গেলা  কাসনারের। যখন তার বয়স মাত্র দুই মাস তখন তার বাবাকে পূর্ব জার্মানির এক ছোট্ট শহরের এক গির্জার ধর্মযাজকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে বার্লিনের উপকণ্ঠে এক গ্রাম এলাকায় বড় হয়েছেন মার্কেল। পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট করে অ্যাঙ্গেলা কাজ নেন পূর্ব বার্লিনের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিতে রসায়নবিদ হিসেবে। ১৯৭৭ সালে সহপাঠী ছাত্র উলরিখ মার্কেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু চার বছর পর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

১৯৮৯ সালের মধ্যে পূর্ব জার্মানিতে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গতিশীল হয়ে ওঠে তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মার্কেল। এরপর বার্লিন প্রাচীর যখন ভেঙে ফেলা হয়, তখন পূর্ব জার্মানিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তিনি পূর্ব জার্মান সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ নেন। ১৯৯০ সালে জার্মানির একত্রীকরণের দুই মাস পর তিনি মধ্য দক্ষিণপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রাট পার্টিতে (সিডিইউ) যোগ দেন। পরের বছর চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের সরকারে তিনি মহিলা ও তরুণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কোল অবৈধ অর্থ লেনদেনের এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে মার্কেল ১৯৯৯ সালে তার পদত্যাগ দাবি করেন। ২০০০ সালে সিডিইউ দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর হন।

ঐক্যের চ্যালেঞ্জ কারেনবাউয়ের

৫৬ বছর বয়সী অ্যানিগ্রেট ক্র্যাম্প কারেনবাউয়ের মূল চ্যালেঞ্জ দলকে বিভক্তি দূর করা। কারণ এরপর জার্মানির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব তাকে পালন করতে হবে। গতকাল তিনি যুব ফ্রন্টের নেতা পল জেইমাককে দায়িত্ব দিয়েছেন। জেইমাক কম ভোটের ব্যবধানে নেতা হন। এতে প্রমাণিত হয় দলের অনেকেই কারেনবাউয়েরকে সমর্থন দিচ্ছেন না। ফলে বিভক্তি দূর করতে না পারলে সামনের নির্বাচনে তার দলের জয় আনাটা কঠিন হবে।