রোহিঙ্গা সমাবেশের মদতদাতারা চিহ্নিত

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩৮

জেলা প্রশাসন রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের নামে গঠিত বেশ কয়েকটি সংগঠন, কয়েকটি এনজিও এবং ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এসব সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন থেকে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কাছে লিখিত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এনজিও ব্যুরোর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে গঠিত ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি (আরআরসি), ভয়েস অব রোহিঙ্গা, আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউমিনিটি রাইটস (এআরএসপিএইচ) এবং এনজিও সংস্থা ‘এডিআরএ’ ও ‘আল মারকাজুল ইসলামি সংস্থা’ নামে দুটি এনজিও রোহিঙ্গা সমাবেশে টি-শার্ট ও ব্যানার সরবরাহ করেছে। রোহিঙ্গা সংগঠন ‘এআরএসপিএইচ’-এর উপদেষ্টা পরিষদে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীসহ কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতের একজন পিপি, দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক এবং ক্যাম্পে কর্মরত এক এএসআই আছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের সামাবেশের আগে ‘এডিআরএ’ নামক একটি এনজিও সংস্থা গত ১৯ ও ২১ আগস্ট কক্সবাজারের কলাতলীর শালিক রেস্তোরাঁয় বৈঠক করে। বৈঠকে আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে আড়াই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ সফল করতে ডি-৫ ব্লক ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি’ (আরআরসি) সংগঠনের চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফার নেতৃত্বে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা সরবরাহ করা হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি সাইফুল হকের আত্মীয়স্বজন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করায় তাদের কাছ থেকেও চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ করে লন্ডনের নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাদের পাঁচ-ছয় মাস আগে সংগঠনের অফিস নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা অনুদান দেন। এই সংগঠনের মূল কমিটি ২৫ জনের।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে গঠিত ‘ভয়েস অব রোহিঙ্গা’ ও রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি (আরআরসি)-এর পক্ষ থেকে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তারা টি-শার্ট ও ব্যানার সরবরাহ করে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কিছু সংগঠন কাজ করলেও মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউমিনিটি রাইটস (এআরএসপিএইচ)’ সংগঠনটি বেশ শক্তিশালী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মুহিবুল্লাহর সংগঠনে ৩০০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন উখিয়ার সিকদারপাড়া এলাকার আব্দুল করিম ভূঁইয়ার ছেলে উখিয়া কলেজের প্রভাষক নুরুল মাসুদ ভূঁইয়া। ২৫ আগস্ট তিনি উপজেলার মানবাধিকার সংগঠন ‘পিসওয়ে হিউম্যান রাইটস সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মাসুদের পূর্বপুরুষ মিয়ানমারের নাগিরক বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ সংগঠনের সাত সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে, যারা কক্সবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের একটি মিটিং হয়। এরপর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

সমাবেশে যেসব ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো সহযোগিতা পায়নি, সেসব ক্যাম্পের মাঝিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে জেলা প্রশাসন গত ৩ সেপ্টেম্বর এনজিও ব্যুরোতে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডি-৫ ব্লকের রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটির (আরআরসি) চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা ও সেক্রেটারি সাইফুল হকের নেতৃত্বে সামবেশটি পরিচালিত হলেও ‘ভয়েস অব রোহিঙ্গা’ এবং ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি’ও সামাবেশে অংশগ্রহণ করে। তবে ক্যাম্প-৪-এ সবচেয়ে বড়ো সমাবেশ করতে সক্ষম হয় ‘আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউমিনিটি রাইটস’ (এআরএসপিএইচ)’ নামের সংগঠনটি। এ সংগঠনের সভাপতি মুহিবুল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক উখিয়া কলেজের প্রভাষক নুরুল মাসুদ ভূঁইয়া সমাবেশে নেতৃত্ব দেন।

ক্যাম্পে কর্মরত এক এএসআইয়ের মোটরসাইকেল ব্যবহার করে কমিটির কর্মকর্তারা ইনানী পর্যন্ত যান। সেখান থেকে কক্সবাজারে গিয়ে সমাবেশে ব্যবহূত টি-শার্ট তৈরি করা হয়। সমাবেশের আগে ‘এডিআরএ’ নামীয় সংস্থার সঙ্গে ১৯ ও ২১ আগস্ট মুহিবুল্লাহর অনুষ্ঠিত বৈঠকে আড়াই লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয় এবং ‘আল মারকাজুল ইসলামি সংস্থা’ সমাবেশে টি-শার্ট তৈরিতে সহযোগিতা করে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংস্থাদ্বয় জেলা ও উপজেলা এনজিওবিষয়ক সমন্বয় সভায় নিয়মিত উপস্থিত থাকে না এবং তাদের কাজের নিয়মিত প্রতিবেদনও জমা দেয় না। এ অবস্থায় এডিআরএ ও আল মারকাজুল ইসলাম নামীয় সংস্থার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।