মঙ্গলে বাতাসের শব্দ!

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৮

৪৮.৫ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২৬ নভেম্বর মঙ্গলের ইলিসিয়াম প্ল্যানিশিয়ায় সফল অবতরণ করেছিল রোবট ‘ইনসাইট’। মঙ্গলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, অনুরণন, কম্পনের মতো অত্যাবশ্যক লক্ষণসমূহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ করার কথা রোবট ইনসাইটের। মঙ্গলপৃষ্ঠের কম্পন জানতে এটিতে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির সিসমোমিয়ার। মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং ঘূর্ণন সম্পর্কে তথ্য জানতে রোবটটিতে রয়েছে তরঙ্গ বিজ্ঞান পরীক্ষা ব্যবস্থাও। উন্নত প্রযুক্তির রোবট ইনসাইট মঙ্গলে অবস্থানের দশ দিনের মাথায়ই সেখানে বাতাসের শব্দ পাঠিয়েছে পৃথিবীতে। মঙ্গলের বাতাসের সেই শব্দ রেকর্ড করেছে নাসার বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলে বাতাসের শব্দ থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন সেখানে এখনো বায়ুমণ্ডল অবশিষ্ট রয়েছে। আর বায়ুমণ্ডল থাকলে প্রাণের অস্তিত্ব মেলারও যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসা জানিয়েছে, নিচু স্বরের বাতাসের সেই গা ছমছম গুড়গুড়ে শব্দ শুনতে উত্তেজনায় নিজেও কেঁপে উঠছে নাসার পাঠানো রোবট ইনসাইট। সেই শব্দের  কম্পন অনুভব করেই সেটি রেকর্ড করে পাঠিয়ে দিয়েছে নাসার কাছে। ১ ডিসেম্বর মঙ্গলে বাতাসের শব্দ শুনতে পায় ইনসাইট। শব্দ শুনেই পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরিতে রিলে করে পাঠিয়েছে ইনসাইট ল্যান্ডার। তা পরীক্ষা করে নাসা জানিয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলের বুকে বইতে থাকা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ মাইল। তার মানে, সেকেন্ডে ৫ থেকে ৭ মিটার। পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে মঙ্গলের বাতাস। স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় সমতল এলাকায় আমাদের আমাদের গ্রহে বাতাস বইতে থাকে সেকেন্ডে গড়ে ২০ মিটার গতিবেগের মধ্যে। তার সামান্য কম-বেশিও হয়।

নাসা জানিয়েছে, লাল গ্রহের মাটিতে নেমে সাত দিন আগে ইনসাইট যে বাতাসের শব্দ শুনে উত্তেজনায় কেঁপে উঠেছে থরথর করে, তা বয়েছে মঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে। ইনসাইট পা ছোঁয়ানোর পর মঙ্গলের মাটি থেকে ধুলোও উড়ে গিয়েছিল একই পথে, একই দিকে। নাসা জানিয়েছে, ইনসাইটের দুটি যন্ত্রে ধরা পড়েছে সেই শব্দ। এর একটি ‘এয়ার প্রেসার সেন্সর’। যা বসানো রয়েছে ইনসাইটের ভিতরে। তা ইনসাইটে থাকা ‘অক্সিলিয়ারি পেলোড সেন্সর সাবসিস্টেম’ (এপিএসএস)-এরই একটি অংশ। এয়ার প্রেসার সেন্সরেই প্রথম সরাসরি ধরা পড়েছে বইতে থাকা বাতাসের কম্পন। -দ্যা গার্ডিয়ান