গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীনভাবে রাজপথে থাকতে হবে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৪

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এবং সুষ্ঠু ভোট আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীনভাবে আরেকবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, গ্রাম-শহর ও জেলা সব জায়গায় রাজপথে থাকতে হবে। ১৬ আনা নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রকামী সব দলকে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। গণফোরামের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। আলোচনায় বিভিন্ন দলের নেতারাও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, দেশ যেভাবে চলছে—এভাবে চলতে থাকলে মহাসংকট তৈরি হবে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সরকারের নিয়ন্ত্রণে জনগণ নেই। তারা বলছে, এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, তারা সবাই নির্বাচিত। কেউ যদি মনে করে ১৬ কোটি মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে পার পেয়ে যাবেন; তাদের বলব, ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখুন। মানুষ কখনও এ ধরনের ভাঁওতাবাজি মেনে নেয়নি। তিনি বলেন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচনে যারা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তারাই দেশ শাসন করবেন। তিনি বলেন, মানুষ উন্নয়ন চায়, কতিপয় মানুষের স্বার্থে উন্নয়ন নয় বা কয়েকটি পরিবারের উন্নয়ন নয়। 

আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আগামী সপ্তাহ থেকে ড. কামাল হোসেনকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনার প্রতি আমার একটাই আবেদন-আপনি যেন আপনার অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করেন। পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে থেকে মৃত্যুবরণ করলে লাভ হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, রাজপথে রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হলে এ সরকার ২ ঘণ্টাও টিকতে পারবে না। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কীভাবে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে, সেটা এখন প্রশ্ন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, এ সরকার নতুন ধরনের স্বৈরতন্ত্র চালু করেছে। কিন্তু তাদের ক্ষমতা নেই, ঠিকমতো টোকা দিতে পারলে পড়ে যাবে।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কথা বলতে হবে। ছাত্রসমাজ কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সভায় অন্যদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।