রবিঠাকুরের নৃত্যালেখ্য বর্ষামঙ্গল মঞ্চস্থ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৯

ষোলোটি গান ষোলোটি সৃষ্টি। শৈলজারঞ্জন মজুমদার নানা কৌশলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দিয়ে গানগুলো করিয়ে নিলেন। কখনো নানা রাগে গান সৃষ্টির কথা বলে, কখনো বর্ষার নতুন বিষয়ে গান তৈরির বায়নায়। আর এভাবেই যখন ষোলোটি গান সৃজন পূর্ণ হলো, তখন সেটি সমষ্টি হয়ে পরিণত হলো গীতি আলেখ্য ‘বর্ষামঙ্গল’ এ। যা প্রথম পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় ১৯৩৯ সালে। সেই বর্ষামঙ্গলই ২০১৯ সালে এসে ঢাকার মঞ্চে উপস্থাপিত হলো নৃত্যালেখ্য রূপে। বর্ষানির্ভর ষোলোটি গানের সঙ্গে যুক্ত হলো নাচের মুগ্ধকর পরিবেশনা আর নেপথ্যে উচ্চারিত হলো প্রতিটি গানের সৃষ্টিকথা। পুরো পরিবেশনায় অংশ নিল ভারতের শান্তনিকেতন আশ্রমের শিল্পীরা। মিলনায়তন ভর্তি দর্শকশ্রোতা উপভোগ করলেন দেড় ঘণ্টার এক রবীন্দ্রময় সন্ধ্যা।

শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এই পরিবেশনাটির আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন চয়নিকা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সহচর সংগীতগুরু আচার্য শৈলজারঞ্জন মজুমদারের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই নৃত্যালেখ্যটি পরিবেশিত হয়। তিন পর্বে সাজানো এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান, বিশ্বভারতীর দুই প্রাক্তন উপাচার্য ড. সুজিত কুমার বসু ও ড. স্বপন কুমার দত্ত এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত মণিপুরী নৃত্যগুরু গুরুদেবযানী চালিহা। সভাপতিত্ব করেন সংসদ  সদস্য মো. ইসরাফিল আলম। এই আয়োজনের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন এস বি বিপ্লব।

আয়োজনের শুরু হয় বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘সুরের গুরু দাও দাও সুরের দীক্ষা’ সমবেত সংগীতে। এরপর ছিল নাতিদীর্ঘ আলোচনা পর্ব। আর তার পরই ছিল বর্ষামঙ্গল নৃত্যালেখ্যের পরিবেশনা। মঞ্চের পেছনের সারিতে বসেছিলেন সংগীত শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে দুই জন ধারাভাষ্যকার গানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরছিলেন। আর তার পরপরই গানটির পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত হয় নাচের অভিব্যক্তি। সবগুলো গানই ছিল নানা রাগে সৃষ্ট বর্ষা ও বর্ষাকালকে ঘিরে। প্রথম গানটি ছিল ‘ওগো সাঁওতালি ছেলে’। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’, ‘আজি তোমায় আবার চাই শোনাবারে’, ‘এসো গো জ্বেলে দিয়ে যাও প্রদীপখানি’, ‘শ্রাবণের গগনের গায়’, ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে’, ‘স্বপ্নে আমার মনে হলো’, ‘এসেছিলে তবু আসো নাই’, ‘এসেছিনু দ্বারে তব শ্রাবণও রাতে’, ‘নিবিড় মেঘের ছায়ায় মন দিয়েছি মেলে’, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’, ‘সগনও গহনও রাত্রি’, ‘ওগো তুমি পঞ্চদশী’, ‘রিমিক ঝিমিক ঝরে’সহ ষোলোটি গান।

গানগুলো গেয়ে শোনান শিখা চ্যাটার্জী, শুভশ্রী বসু ও ড. মানস ভূল। তাদের গাওয়া গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন তন্ময় পাল, কৃষ্ণেন্দু দে, সহেলী নন্দী, ঐন্ত্রিলা পাল ও তানিসা সিংহ। প্রতিটি গানের নেপথ্য গল্প তুলে ধরেন স্বপ্না দে ও শাশ্বতী গুহ। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ড. সুমিত বসু। যন্ত্রবাদনে অংশ নেন তবলা ও খোলে চঞ্চল নন্দী, এস াজে সৌগত দাস। জাতীয় সংগীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।