ঐক্য ফ্রন্ট ১৯টি ও জামায়াতকে ২৩ আসন ছাড়ল বিএনপি

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৩০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে ৫৭টি আসন ছেড়েছে বিএনপি। এরমধ্যে ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি, জামায়াতকে ২৩টি ও অন্যদের ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গণফোরামের সাথে কয়েকটি আসন নিয়ে দরকাষাকষি চলছে। এর মধ্যে গতকাল রাত ১টা পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডিকে ৫টি, গণফোরামকে ৬টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ৩টি, নাগরিক ঐক্যকে ৫টি এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে একটি আসন ছেড়েছে। বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জোটের যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন

জেএসডি: আসম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪), শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ঢাকা-১৮), সাইফুল ইসলাম, (কিশোরগঞ্জ-৩), নূরুল ইসলাম (শরীয়তপুর-১)।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ তিনটি: বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৮) ও টাঙ্গাইল-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনে ইকবাল সিদ্দিকী।

গণফোরাম: মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭), এএইচএম খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ-৮), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ (পাবনা-১), আমসা আমিন (কুড়িগ্রাম-২)। এছাড়া সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন- তিনি ঢাকা-৬ আসনে জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া: সুলতান মোহাম্মদ মনুসর (মৌলভীবাজার-২)

নাগরিক ঐক্য: মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এসএম আকবর (নারায়ণগঞ্জ-৫), শাহ রহমত উল্লাহ (রংপুর-১), মোফাখখারুল ইসলাম (রংপুর-৫), নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর (বরিশাল-৪)

২০ দলীয় জোট:

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি, খেলাফত মজলিশ দুইটি, এলডিপি পাঁচটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দুইটি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম তিনটি, এনপিপি একটি ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টিকে একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ। এনপিপি: নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। পিপলস পার্টি: রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান। কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

এলডিপি: চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. নূরুল আলম, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।

খেলাফত মজলিশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মুনির হোসেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা শাহিনুর পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর): গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন।

এছাড়া জামায়াত ইসলামীর আসনের বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কিছুই বলা হচ্ছে না। তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে তারা ২৩টি আসনে মনোনয়নপত্র পাচ্ছেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ।

জামায়াত ইসলামী: ঢাকা-১৫ আসনের ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পরোয়ার, চট্টগ্রাম- আসনে শামসুল ইসলাম, কক্সাবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেট-৫ আসনে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী। এছাড়া বাগেরহাট, পাবনা ও যশোরের আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি।

২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। শুধুমাত্র এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ নিজ দলের ‘ছাতা’ প্রতীকে ভোট করবেন।