বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এটি করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদী চীন। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সংলাপে চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ো এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো গভীর করবে চীন। বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্ক আরো জোরদারের লক্ষ্যে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঝ্যাং জুয়ো বলেন, সংকটের শুরু থেকেই চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করছে। এক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায় বেইজিং।
‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক:ভবিষ্যতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কসমস গ্রুপের জনহিতকর সংস্থা কসমস ফাউন্ডেশন। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিঅব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ (আইএসএএস) এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান। সংলাপে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন চীনের সিচুয়ান ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অফ সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লি তাও, পিপলস ডেইলির ভারত ব্যুরোর সিনিয়র সাংবাদিক ইয়ন জিরং, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। সংলাপে বক্তারা দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় কয়েকজন বক্তা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের কাঙ্খিত ভূমিকা না রাখার সমালোচনা করেন।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ো আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ভালো ও নির্বিঘ্ন হবে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানুষে-মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৩ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে উল্লেখ করে চীনা দূত বলেন, এটি দিনে দিনে কেবলই বাড়ছে। বিশেষ করে, ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে। সেটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব রক্ষা করতে চাই। চীনের কূটনীতিতে আমরা বাংলাদেশকে উচ্চ পর্যায়ের অগ্রাধিকার দিতে প্রস্তুত। যাতে আমরা সহযোগিতার দিক দিয়ে বৃহত্ অংশীদার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ভালো প্রতিবেশিতে পরিণত হতে পারি। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন করতে আগ্রহী।
