বিদেশের মাটিতে চার বাংলাদেশির সাফল্য

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:২২

এই বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবীর সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। তবে তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে থেকে নিজের স্বপ্ন ধরাটা হয়তো অনেক কঠিন। কিন্তু নিজের মেধা আর শ্রম দিয়ে এই কঠিনকে জয় করছেন অনেকে। বিশ্বের অনেক নামী প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কাজও করছেন। সেই তালিকায় বাংলাদেশিও কম নেই। এমনই সফল চার বাংলাদেশির গল্প নিয়ে এবারের ভিন্ন চোখের প্রধান প্রতিবেদন—

গায়ানার ফুটবল কোচ মৌলভীবাজারের টাফ

তাহমিদ আহমেদ শুভ্র

 

ক্যারিবিয়ান দেশ গায়ানায় সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। এরপরই ফুটবলের স্থান। দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় একটি দিন ছিল চলতি বছরের ২৩ মার্চ। স্বাধীনতার ৫৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এদিন উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘কনকাকাফ গোল্ডকাপ’-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দেশটি। এই অর্জনের নেপথ্যে একজন বাংলাদেশির ভূমিকাও ছিল। তিনি টাফ রহমান।

সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশিদের খুব বেশি সাফল্য নেই। এরমধ্যেই যেন চমকে দিলেন বাংলাদেশি টাফ রহমান। প্রবাসী এই সাবেক ফুটবলার ক্যারিবিয়ান দেশ গায়ানার জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো দেশের জাতীয় দলে কাজ করা প্রথম বাংলাদেশি তিনিই। একমাত্রও বটে! তার হাত ধরেই দেশটি প্রথমবারের মতো খেলেছে কনকাকাফ গোল্ডকাপের মূলপর্বে।

ব্রিটেন প্রবাসী এই বাংলাদেশি গতবছরের জুন থেকে গায়ানার সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। আর্সেনাল একাডেমির হয়ে ফুটবলের হাতেখড়ি শুরু তার। এরপর সান্নিধ্য পেয়েছেন থিয়েরি অঁরি, রবার্ট পিরেস, বার্গক্যাম্পদের। ইনজুরির কারণে ফুটবল ছাড়ার পর কাজ করেছেন টটেনহ্যাম একাডেমি কোচ হিসেবে। আর ১ বছরের মাথায় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত টাফ রহমান। তিনি বলেন, ‘ইনজুরির পর আমার মনোবল ছিল যে, আমি কিছু একটা করতে পারবো। অনেকেরই জানা ইউরোপের বাইরে কাজ করা আমাদের জন্য কত বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে আমি এত তাড়াতাড়ি সাফল্য পাবো তা চিন্তা করিনি।’

গায়ানার জাতীয় দল যখন কনকাকাফের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পায় তখন শুধু দেশটির নয়, টাফেরও যেন একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তার কাছে বিষয়টি অনেকটা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। টাফ রহমান বলেন, ‘ক্লাইভ লয়েড, কার্ল হুপার, সারওয়ান চন্দরপলের দেশে ভালো ফুটবলার খুঁজে বের করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। গায়ানা ক্রিকেটের বেশি জনপ্রিয় হলেও তারা কিন্তু ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে। আর তাদের সহায়তায় শুধু গায়ানা নয়, দেশটির বাইরে অনেক প্রবাসী ফুটবলারের খোঁজও আমরা পেয়েছি ইউরোপে। তাদের নিয়েও নতুন মিশন শুরু করবো।’

মৌলভীবাজারের ছেলে টাফ রহমানের কোচিং ক্যারিয়ার যে খুব একটা সুখের তা কিন্তু নয়। নানা উত্থান-পতনের স্বাক্ষী হতে হয়েছে তাকে। গায়নার এই কোচ বলেন, ‘আমি ৫০ বারের মতো চাকরি থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। ফুটবল এখন অনেক প্রতিযোগিতামূলক খেলা। খুব কম সুযোগই পাবেন আপনি। তাই আপনাকে চেষ্টা করে যেতেই হবে।’

গায়ানা ও ব্রিটেনে টাফ রহমানের বেশি সময় কাটলেও প্রায়ই মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। চলতি বছরেও বাংলাদেশে এসেছিলেন, ঘুরেছে সিলেটের অংসখ্য জায়গা। মৌলভীবাজারের চা বাগান তাকে খুব টানে। দেশের কিশোর-তরুণদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তার বেশ নজরও কেড়েছে। টাফ রহমান বলেন, ‘ফুটবল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। দেশের আনাচে-কানাচে যেখানেই যাবেন দেখবেন ফুটবল নিয়ে ছোটাছুটি করছে ছোট বাচ্চারা। আমরা চাইলে বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে পারি, শুধু চ্যালেঞ্জটা নেওয়া দরকার। সুযোগ পেলে আমিও কাজ করতে চাই বাংলাদেশে।’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সিনেটর বাংলাদেশি শেখ রহমান

জোবায়ের আহমেদ

 

জর্জিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। সেখানকার আইন সভায় সিনেটরের পদ রয়েছে ৫৬টি। নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নে স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন। তার ডাক নাম শেখ রহমান। প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্য হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত শেখ রহমান শুধু বাংলাদেশ নয়, অভিবাসীদেরও প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। আমেরিকার রাজনীতিতে জর্জিয়া রিপাবলিকান ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় শেখ রহমানের নির্বাচিত হওয়াটা বড় বিষয়ও বটে!

শেখ রহমানের এই নির্বাচিত হওয়াটা বাংলাদেশের দিক থেকে অবশ্যই বিশেষ কিছু। তিনি নিজেও বাংলাদেশি ও মুসলমান পরিচয়টি ঊর্ধ্বে তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে তার এ নির্বাচিত হওয়াটা সবার সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি আমেরিকার নাগরিক এবং জর্জিয়ার ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর সব মানুষের প্রতিনিধি।

চন্দন আমেরিকায় পা রাখেন ১৯৮১ সালের ৭ জানুয়ারি। গিয়েই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। হয়ে ওঠেন একজন অ্যাক্টিভিস্ট। রাজনৈতিক জীবনে এই ট্যাগটি তাকে অনেকভাবে সাহায্য করেছে। ১৯৯৫ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব পান তিনি। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও গ্লোবাল স্টাডিজ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট হন। তারপর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে থাকেন। কাজ করতে থাকেন ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক, সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ইত্যাদি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। এরপর যোগ দেন ডেমোক্রেট পার্টিতে।

এরপর অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে সামাজিক কাজ করে শেখ রহমান নিজেকে ডেমোক্রেট পার্টির নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে পার্টির কার্যনির্বাহী সদস্য হন। শুধু তা-ই নয়, শেখ রহমান ডেমোক্রেটিক দলের স্থায়ী সুপার ডেলিগেট হিসেবে দলটির নীতি নির্ধারণী বিষয়েও ভূমিকা রাখছেন। এরপরই পা বাড়ান স্টেট সিনেটে লড়াইয়ের দিকে।

২০১৮ সালের ২২ মে শেখ রহমান জর্জিয়ার সিনেট আসন ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়ে চূড়ান্ত নির্বাচনের পথে এগিয়ে যান। পরে ৬ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়ে যান তিনি। বিশাল ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারানোর নজিরে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। চন্দন বলেন, ‘আমার এই জয় আরো বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকানকে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে টেনে আনবে, বিশেষ করে তরুণদের। একজন আমেরিকান হিসেবে আমার নির্বাচনী এলাকার সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ভোটাররা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন তার প্রতিদান দিতে চাই।’

শেখ রহমান শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিকসহ সবাইকে নিয়ে জর্জিয়ায় একটি নিরপেক্ষ ও ভেদাভেদহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেন।

হংকংয়ে ফারিহার সাফল্যে হতবাক সবাই

ফাহমিদা আলম

 

বয়র মাত্র ২০ বছর। এরমধ্যেই হংকংয়ের আইন পরিষদে সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান বাংলাদেশি তরুণী বকর ফারিহা সালমা দিয়া। তিনি একদিন হংকংয়ে আইনপ্রণেতা হওয়ারও স্বপ্ন দেখছেন। ফারিহা বলেন, ‘আমি সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে এসেছি। আমার বয়স মাত্র ২০। এটা দেখে আমার সহকর্মীরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

ফারিহার জন্ম হংকংয়ে, ২৫ বছর আগে তার বাবা চাকরি সূত্রে পরিবার নিয়ে হংকংয়ে পাড়ি জমান। বাবা-মায়ের সঙ্গে ফারিহা কাউলুনের ইয়উ মা তেইয়ে থাকেন। সবারই জানা, ভিনদেশের মানুষদের হংকংয়ের মূল স্রোতের অংশ হতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। হংকংয়ে যারা সংখ্যালঘু তাদের স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া, চাকরি সব ক্ষেত্রেই নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। এই বাঁধা টপকাতে ফারিহা হংকংয়ের প্রধান ভাষা ক্যান্টোনিস শেখাকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেন। ক্যান্টোনিস ছাড়াও তিনি একাধারে মান্দারিন, বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও ফিলিপিনো (তাগালগ) ভাষায় পারদর্শী।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফরিহা বলেন, ‘আমি চাই হংকংয়ে সংখ্যালঘুরা আরো উন্নত জীবন পাক। হংকংয়ের আইন পরিষদে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা।’ ক্যান্টোনিস ভাষার ওপর দক্ষতাই হংকংয়ে তার জীবন এবং ক্যারিয়ার গঠন সহজ করে দিয়েছে বলে মনে করেন ফারিহা। তিনি বলেন, ‘ক্যান্টোনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমি এই ভাষায় দক্ষ না হতাম তবে ডিগ্রি থাকার পরও চাকরি পেতে আমাকে অনেক বাঁধার মুখে পড়তে হতো। ক্যান্টোনিস ভাষা হংকংয়ের সংস্কৃতির অংশ। এখানে বসবাস করতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।’

স্কুলে অন্যান্য ভাষাভাষীর শিক্ষার্থীরা যখন ক্যান্টোনিস ভাষা শিক্ষাকে সহপাঠ হিসেবে নিয়েছে তখন ফারিহা সেটিকে প্রধান বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ক্যান্টোনিসে দক্ষতা বাড়াতে পড়াশোনার বাইরে তিনি নিয়মিত খবরের কাগজ পড়তেন এবং ক্যান্টোনিস ভাষার নাটক দেখতেন। তার এই প্রচেষ্টা এক সময় ফল দিতে শুরু করে। ফারিহা খুব সহজেই স্থানীয় ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করেন। তার বন্ধুদের ৯০ শতাংশই স্থানীয়। এখানে বাড়িওয়ালারা অন্য দেশ থেকে আসা লোকদের ভাড়া দিতে চায় না।

গৃহকর্মী বাদে হংকংয়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার সংখ্যালঘু মানুষ বাস করে। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে ফারিহা বলেন, ‘হংকংকে সংখ্যালঘুদের জন্য আরো সুন্দর জায়গা বানাতে আমি আইন পরিষদের একজন সদস্য হতে চাই।’ গত মার্চে ‘ডাইভারসিটি লিস্ট’-এ সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন ফারিহা। একটি সম্মেলনে তার দেওয়া বক্তৃতা বর্তমান বস হংকংয়ের আইনপ্রণেতা ডেনিস কোক উইং-হাংয়ের নজর কাড়ে। ফারিহাকে নিজের সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন কোক। গত আগস্ট থেকে সপ্তাহে ৩ দিন ১০টা থেকে ৬টা কোকের কার্যালয়ে কাজ করছেন ফারিহা।

সাফল্যই খুঁজেছিল মেহেদিকে!

আবরার হোসেন

 

পাবলিক বাস কিংবা বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় ‘চাকরি আপনাকে খুঁজছে’ টাইপের বিজ্ঞাপন। এসব দেখে অনেকেই হাসেন। বলেন, এ-ও সম্ভব নাকি! হাস্যকর নয়, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশি তরুণ মেহেদী বখতের নাম। তাকে খুঁজে নিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। আর তিনি হয়ে ওঠেন ফেসবুকের প্রথম বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

অনেকের কাছে মাইক্রোসফট, গুগল কিংবা ফেসবুকে কাজ করাটা স্বপ্নের মতো। এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নিজেরাই মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে থাকে। এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ফেসবুকে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মেহেদী বখত। তিনি ২০১২ সালে ফেসবুকে যোগ দেন।

ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন মেহেদী বখত। তার বাবা জায়েদ বখত একজন অর্থনীতিবিদ এবং মা হালিমা জায়েদ গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন তুখোড় মেধাবী। মীর্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১১তম এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তৃতীয় হন তিনি। এরপর বুয়েটে কম্পিউটার কৌশল বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন। মেহেদী বখত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ার সময় দু-বার এসিএম আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার (আইসিপিসি) চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছিলেন। পরে বুয়েট থেকে স্নাতক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আরবানা-ক্যাম্পিংয়ে (ইউআইইউসি) পড়তে যান। সেখান থেকেই নেটওয়ার্কিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ফেসবুকে যোগ দেওয়ার গল্পটি শোনালেন মেহেদী নিজেই। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে ২০১১ সালের শেষদিক থেকেই চাকরি খোঁজা শুরু করি আমি। সেসময় ফেসবুক এতটা বড় প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেনি। তাই চাকরির জন্য গুগল, আমাজন, মাইক্রোসফট, লিংকড-ইনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেষ্টা করতে থাকি। এরইমধ্যে ফেসবুক থেকে একদিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো। এরপর তাদের কথামতো সাক্ষাত্কার দিলাম।’

একাধিক পর্বে ফোন-সাক্ষাত্কার দিয়ে শেষে মেহেদী অংশ নেন ‘অনসাইট ইন্টারভিউ’-এ। দুই সপ্তাহের মাঝে ফেসবুক আমন্ত্রণ জানায় মেহেদীকে। সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিলেন ফেসবুকের ‘মেসেজেস’ দলে। ‘চ্যাট প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামেও পরিচিত এ বিভাগ। মেহেদী বলেন, ‘ফেসবুকের পরে আমার যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ ছিল সেগুলোর প্রায় সবগুলো থেকেই ভালো পদে চাকরি করার সুযোগ পেয়েছিলাম।’

ফেসবুকে কাজ করে বেশ খুশি মেহেদী। জানালেন, ‘ফেসবুক এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে আমরা যে কাজটি করি, সেটি সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছে যায়। কাজের পরিবেশও চমত্কার। যাদের সঙ্গে কাজ করছি সেই মেধাবী সহকর্মীদের কাছ থেকেও অনেককিছু শেখা যায়।’

৩ বছরেরও বেশি সময় ফেসবুকে মেসেজেস টিমে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মেহেদী। বর্তমানে ভ্যারিফ্লো নামক একটি প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতে ব্যবসায় উদ্যোগ শুরু করতে চান মেহেদী বখত। তিনি জানান, ফেসবুক, গুগল, টুইটার, আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠানে কে কোন প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষ সেটি বড় কথা নয়। বরং প্রাথমিক সমস্যাগুলো সমাধানের যোগ্যতা কার কেমন রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়।’