স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
সাকিবকে সংবাদ সম্মেলনে সহজে পাওয়া যায় না। এই টেস্টে এই নিয়ে তিন দিন চলে এলেন নিজে থেকে। বললেন, দলের খারাপ সময়ে সতীর্থদের ওপর থেকে সংবাদমাধ্যমের চাপ কমাতে তার এই সিদ্ধান্ত।
শুধু দিনের খেলা নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট, এই ম্যাচের বিশ্লেষণ, ভবিষ্যত্; সবকিছু নিয়ে দীর্ঘ আলাপ করলেন সংবাদ সম্মেলনে। অধিনায়কের সেই সংবাদ সম্মেলনের নির্বাচিত অংশ—
n বেশি চাপে আছেন নাকি?
c হ্যাঁ, অবশ্যই। যে ধরনের ম্যাচ আমরা আশা করছিলাম তার পুরো বিপরীত। স্বাভবিকভাবেই চাপ তো থাকবেই।
n সেজন্যই কি আপনি এলেন সংবাদ সম্মেলনে?
c টিমমেটদের ওপর থেকে চাপ কমানোর একটা উপায় এটা বলতে পারেন। বাট মাঠের চাপ তো থাকবেই, যতদিন ক্রিকেট খেলব ততদিনই থাকবে।
n বিসিবি সভাপতি বলেছেন, আপনাদের সব পরিকল্পনায় ভুল ছিল...
c পরিকল্পনা ঠিকমতো যদি এক্সিকিউট হতো তাহলে এরকম হতো না। যেহেতু পরিকল্পনা ঠিকমতো এক্সিকিউট হয়নি, তাই এরকম হয়েছে। তখন এটাই বলা স্বাভাবিক যে পরিকল্পনায় ভুল ছিল।
n ব্যাটসম্যানদের সমস্যা কি টেকনিক্যাল, নাকি মানসিক?
c দুইটাই বলতে পারেন। টেকনিক্যালি সমস্যাও বলতে পারেন। যেহেতু রিস্ট স্পিনার খেলি না। ফলে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকে। আমি বলব না কারো অ্যাপ্রোচে সমস্যা ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা অনেক ভয় নিয়ে খেলি, অনেক প্রেশার নিয়ে খেলি। আসলে দিন শেষে এটা ক্রিকেট ম্যাচ, অবশ্যই ইমপরট্যান্ট আমাদের জন্য। কিন্তু দুনিয়ার সব কিছুই এটা না। কিন্তু আমরা অনেক সময় এরকম ভেবে যেটা করি যে, এত বেশি প্রেশার নিয়ে ফেলি নিজেদের ওপরে পারফরম করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয় এবং যখন করতে পারি না তখন প্রেশারটা আরো বেশি পড়ে।
n ৩৯৮ সম্ভব মনে হয়েছিল নামার আগে?
c ৩০ রান পর্যন্ত মনে হয়েছিল সম্ভব। কারণ উইকেটটা এখনো খারাপ হয়নি।
n আমাদের কি আসলে সামর্থ্যেরই অভাব?
c সামর্থ্য সবার ভেতরেই আছে। আমাদের দলে যত প্লেয়ার খেলছে, একমাত্র সাদমান বাদে এমন কেউ নেই যে বড়ো ইনিংস খেলে নাই বা দলকে জেতানোর পেছনে বড়ো ভূমিকা ছিল না কখনো। তারা যেহেতু পারে, তার মানে সামর্থ্য অবশ্যই আছে। একটা বিষয় হলো আপনার ট্যালেন্ট আছে এবং সেটা মাঠেও প্রদর্শন করা। আরেকটা হলো ট্যালেন্ট আছে কিন্তু সেটা কখনো দেখাতে না পারা। এটা খুবই সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য। কিন্তু এটাই আপনার বড়ো খেলোয়াড় ও ছোটো খেলোয়াড়দের আলাদা করে দেয়।
n আফগানিস্তানের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আমাদের চেয়ে ভালো ছিল।
c ভালো! কিন্তু আমরা তো আসলে ওদের সেই পজিশনে আনতেই পারিনি যখন ক্যারেক্টার শো করা দরকার। যদি আনতে পারতাম, তখন আসলে বোঝা যেত যে ওদের কত ক্যারেক্টার আছে। যেহেতু ঐ পজিশনেই আনতে পারিনি, তাহলে ওদের ক্যারেক্টার কী দেখব! আমরা যদি আজকে ২ উইকেটে ২০০ রান করতে পারতাম, তখন না হয় কালকে ওদের ক্যারেক্টার, ডিটারমিনেশন আরো সব দেখতাম।
n এখন কি মনে হচ্ছে, অন্তত এশিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে পেসার রাখা উচিত দলে?
c আমি যেটা ম্যাচের আগের দিনও বলেছি, পেসারদের জায়গাটা ডিজার্ভ করতে হবে তো, নাকি। আপনি যদি দেখেন, আজকেই আমি পেসারদের পরিসংখ্যান দেখেছিলাম। আমাদের পেসারদের ইকোনমি ৪.৪১। ওরা যদি পুরো ৯০ ওভার বোলিং করে তাহলে এক দিনেই রান দেবে ৪০০। আমরা তাহলে কিন্তু প্রথম দিনই টেস্টের বাইরে। ইকোনমি রেট যদি ২.৮ কিংবা ২.৯ থাকে এবং ওরকম স্ট্রাইক রেট থাকলে তখনই না আমরা ওদেরকে পিক করতে পারব। আমাদের কোনো বোলার যদি আমাদের কাজেই না আসে তাকে নিয়ে লাভটা কী?
n উইকেট মনমতো হয়নি বলেছেন। উইকেট যে এমন সেটা কি খেলা শুরুর আগে জানতে পেরেছিলেন?
c উইকেট কেমন সেটা বুঝতে পারলে তো পরিকল্পনা অন্যরকম হতে পারত। এটা অবশ্যই হতাশার। এটা জানা জরুরি যে আমরা যে রকম চেয়েছিলাম সেটা যে পাচ্ছি না। এটা মাঠে নামার পর জানলে তো তখন কিছু করার থাকে না।
স্কোরকার্ড
(একমাত্র টেস্ট ম্যাচ, চতুর্থ দিন শেষে)
ভেন্যু: জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম
টস: আফগানিস্তান
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ৩৪২
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২০৫
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস রান বল চার ছয়
জাজাই অপরাজিত ৪৮ ১১০ ৩ ১
ইয়ামিন রান আউট ৯ ১১ ১ ০
জহির ক মুমিনুল ব মিরাজ ০ ২ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৪) ৪
মোট (অল আউট, ৯০.৭ ওভার) ২৬০
উইকেট পতন :
১-৪ (এহসানউল্লাহ), ২-৪ (রহমত), ৩-২৮ (হাসমতউল্লাহ), ৪-১৩৬ (আসগর), ৫-১৭১ (ইব্রাহিম), ৬-১৮০ (নবী) , ৭-২১০ (রশিদ), ৮-২৩৫ (কায়েস), ৯-২৬০ (ইয়ামিন), ১০-২৬০ (জহির)।
বোলিং :
সাকিব ১৯-৩-৫৮-৩, মিরাজ ১২.১-৩-৩৫-২, তাইজুল ২৮-৬-৮৬-২, নাঈম ১৭-২-৬১-২, মুমিনুল ১০-৬-১৩-০, মোসাদ্দেক ৪-১-৩-০।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
রান বল চার ছয়
লিটন এলবি ব জহির ৯ ৩০ ০ ০
সাদমান এলবি ব নবী ৪১ ১১৪ ৪ ০
মোসাদ্দেক ক আসগর ব জহির ১২ ১৭ ০ ০
মুশফিক এলবি ব রশিদ ২৩ ২৫ ৪ ০
মুমিনুল এলবি ব রশিদ ৩ ৮ ০ ০
সাকিব অপরাজিত ৩৯ ৪৬ ৪ ০
মাহমুদউল্লাহ ক ইব্রাহিম ব রশিদ ৭ ২১ ০ ০
সৌম্য অপরাজিত ০ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা-২) ২
মোট (৬ উইকেট, ৪৪.২ ওভার) ১৩৬
উইকেট পতন :
১-৩০ (লিটন), ২-৫২ (মোসাদ্দেক), ৩-৭৮ (মুশফিক), ৪-৮২ (মুমিনুল), ৫-১০৬ (সাদমান), ৬-১২৫ (মাহমুদউল্লাহ), ৭-১৩০ (মুমিনুল), ৮-১৪৬ (মিরাজ), ৯-১৯৪ (তাইজুল), ১০-২০৫ (নাঈম)
বোলিং :
ইয়ামিন ৪-১-১৪-০, নবি ১৭.২-৪-৩৮-১, রশিদ ১৩-০-৪৬-৩, জহির ১০-০-৩৬-২।
