যমুনা সার কারখানা বন্ধে ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯

কর্মহীন ৩৫ হাজার লোক

এস এম হালিম দুলাল, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে দেশের সর্ববৃহত্ দানাদার ইউরিয়া উত্পাদনকারী যমুনা সার কারখানাটি ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। অ্যামোনিয়া গ্যাস প্ল্যান্টের কনভার্টার হিটারে ভয়াবহ আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে কারখানাটির এ অবস্থা। তাই বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানাটি চালু করতে কর্তৃপক্ষ ইউরোপ থেকে একদল বিশেষজ্ঞ নিয়ে এলেও আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। অপরদিকে, কারখানা সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কারখানাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর ভোর ৬টায় অ্যামোনিয়া গ্যাস প্ল্যান্টের কনভার্টার হিটারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারখানাটি। ফলে কারখানার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে বিকল্প পন্থায় কারখানাটি চালু করতে ইউরোপ থেকে প্রসেস লাইসেন্সর বিশেষজ্ঞদল আনা হয়। ইরোপিয়ান বিশেষজ্ঞ দল এসে ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তুলতে সক্ষম হলেও কারখানা চালু করতে ৩৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাই কারখানাটি চালু কিংবা সচল করা সম্ভব হয়নি। যদিও কারখানা সচল হয়নি, তবুও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞ দলকে ৬৬ হাজার ইউরো অর্থাত্ প্রায় কয়েক কোটি টাকা বিল দিতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানাটি ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে সার উত্পাদনে যায়। ঐ সময় থেকেই ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উত্পাদন করে আসছিল; কিন্তু যন্ত্রপাতি পুরোনো হওয়া এবং চাহিদার তুলনায় তিতাস গ্যাস সরবরাহ না থাকার কারণে গড়ে সার উত্পাদন নেমে এসেছিল ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টনে। সে হিসাব অনুযায়ী গত ৯ মাসে সার উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়াও এক বছর কারখানা বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ সব কিছু মিলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় হাজার কোটি টাকার ওপরে।

যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, শ্রমিক নেতা মো. জাহিদুর রহমান জানান, কারখানা বন্ধ থাকায় কারখানাসংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে তারাকান্দির পরিবহন শ্রমিক নেতা মাসুদ আলী বলেন, কারখানা এলাকায় প্রায় ৬০০ ট্রাক আছে, প্রতিদিন ৩ থেকে ৪০০ ট্রাকে সার পরিবহন করা হয়ে থাকে। কারখানা বন্ধ থাকার কারণে পরিবহন সংশ্লিষ্ট ট্রাকের চালক-হেলপারসহ আরো প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে এবং প্রয়োজনীয় পরিমান সার আমদানি করা না গেলে ১৯ জেলায় আগামী ইরিবোরো মৌসুমে সারসংকট দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান জাভেদ আনোয়ারের কাছে কারখানা চালু প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার কারখানা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের মিটসুবিশি হ্যাপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন। তাই মিটসুবিশি কোম্পানির সঙ্গে বিসিআইসির যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্টার্ট অফ হিটারটি তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ফেব্রিকেশনের কাজ করছে। বিশেষজ্ঞ দলের একটি টিম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আসার কথা রয়েছে, অপর দলটি অক্টোবরে স্টার্ট অফ হিটারসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ নিয়ে কারখানায় আসবেন। নভেম্বরে মেরামতের কাজ শেষ হলে ডিসেম্বরে কারখানা সার উত্পাদনে যওয়ার আশা প্রকাশ করছেন তিনি।