বিপাকে পাবনার গো-খামারিরা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০১

পাবনা প্রতিনিধি

গো-খাদ্যের বাড়তি দাম আর মিল্কভিটা ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর দুধের দাম বেঁধে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাবনার গো-খামারিরা। ন্যায্যমূল্য না থাকায় উঠছে না দুধের উত্পাদন খরচ। জেলার ফরিদপুর উপজেলার দুগ্ধখামার মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, তার খামারে গরুর সংখ্যা ৭০। প্রতি সপ্তাহে ২৮ হাজার টাকার খাদ্য লাগে। তিলের খইল আগের সপ্তাহে কিনলেন ২১০০ টাকা বস্তা (৬০ কেজি)। সেই খইল এই সপ্তাহে কিনছেন ২৬০০ টাকা। ভুসিসহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম বাড়লেও কোম্পানি দুধের সংগ্রহ মূল্য বাড়ায়নি। স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি লিটার তরল দুধের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কিন্তু কোম্পানিগুলো ঘনত্ব পরিমাপ করে মানভেদে দুধের দাম দেয় লিটারপ্রতি ৩৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। সর্বনিম্ন সংগ্রহ মূল্য লিটারপ্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

সাঁথিয়া উপজেলার সেলন্দা গ্রামের গো-খামারি সরোয়ার জাহান জানান, কোম্পানির দেয়া দামে তাদের খরচই ওঠে না। লোকসানে পড়ে অনেকেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছে।  বেড়া  উপজেলার প্রাণ কোম্পানির কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, তারা দুধ সংগ্রহ কমাননি। একটি গরুর খাদ্য কতটুকু দরকার—অনেক খামারি বোঝেন না। বেশি খাওয়ালে লোকসান তো হবেই। তাছাড়া অনেকে দুধ শেষ পর্যন্ত দোয়ান না। বাছুরের জন্য রেখে দেন। ঐ দুধে ফ্যাট থাকে বেশি। ফ্যাট অনুযায়ী দাম নির্ভর করে।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন মন্ডল বলেন, পাবনা অঞ্চলে গো-খামারির সংখ্যা ৬ হাজারের ওপর। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লাখ লিটার তরল দুধ উত্পন্ন হয়। যার প্রায় অর্ধেক মিল্কভিটা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে। এই শিল্প গড়েই উঠেছে মিল্কভিটা ও অন্যান্য দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ফলে দীর্ঘদিনেও দুধ বিক্রিতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেঁধে দেওয়া দামে দুধ বিক্রি করা ছাড়া কৃষকের অন্য পথ খোলা নেই। বিপণন ও সংরক্ষণে কোম্পানিগুলোর ওপর এই অতি নির্ভরতায় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে খামারিদের নিজ উদ্যোগে সংরক্ষণ ও বিপণনে নতুন নতুন পথ খোঁজার পরামর্শ তার।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, যে কোনো অপ্রত্যাশিত সংকট থেকে এ শিল্পকে বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।