নিরসন হবে যানজট, বৃদ্ধি পাবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য
কাজী শাহ্জাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ২৮৯ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বন্দরটি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থলপথে মালামাল আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলো খালি করতে আট থেকে ১০ দিন লেগে যায়। বন্দরে প্রবেশ করতে না পারায় রাস্তার দুই ধারে যত্রতত্র রাখার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। এ বন্দরে ওপেন ইয়ার্ডসহ ৩৫টি শেড রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক এবং ৩০০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশি ট্রাক বন্দরে আসে। কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি যানবাহন পার্কিং করা সম্ভব হবে। কার্গো ভেহিকেল নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আগত পণ্যবাহী গাড়ি সংরক্ষণ ও যানজট নিরসনসহ আমদানি-রপ্তানি কাজে গতিশীলতা বাড়বে। এ বন্দর দিয়ে বৃদ্ধি পাবে সরকারের রাজস্ব আদায়। ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়েছে।
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান বলেন, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটা নির্মাণ হলে বন্দরের অনেক প্রসার ঘটবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক প্রদোষ কান্দি দাস বলেন, কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ টার্মিনাল নির্মাণ হওয়ার পর এখানে ১ হাজার ২০০ ট্রাক পার্কিং করা সম্ভব হবে। যানজট নিরসনসহ বন্দরে যে জায়গা সংকট আছে সেটাও আর থাকবে না। বন্দরের রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা বাড়বে।
