পাঁচ মিনিটে বন্ধ লাইন হবে চালু

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৬

পল্লী বিদ্যুত্ স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুত্ স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ তৈরির মাধ্যমে ১৭ লাখ গ্রাহককে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি। এর ফলে সঞ্চালন লাইনের যে জায়গাতেই সমস্যা হোক তা দ্রুত সমাধান করে স্বল্প সময়ে লাইন চালু হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ গ্রাহকরাও। রবিবার দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ গঠন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম আবুল হাসান জানান, পল্লী বিদ্যুতের লাইন বেশিরভাগই গ্রামাঞ্চলে। গাছপালা, বন-জঙ্গল, বাঁশঝাড়ের মধ্য দিয়ে লাইন টানা হয়েছে। সামান্য বাতাসেই লাইন ফল্ট হয় বা ডাল-বাঁশ ভেঙে পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সমস্যার জায়গাটি খুঁজে বের করতে আমাদের দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। কারণ ফরিদপুর অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় আট হাজার কিলোমিটার লাইন রয়েছে। লাইনের সমস্যার জায়গাটি খুঁজে বের করতে দেরি হওয়ার কারণে সমাধান করতেও বেশ দেরি হয়ে যায়। সেই সময়টা ঐ এলাকাতে বিদ্যুত্ সঞ্চালন বন্ধ থাকে।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি একটি উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ৫৩০টি পয়েন্টে চার সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ তৈরি করা হবে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে লাইনের সমস্যা জেনে নিবেন। অথবা তারা ফোন করে সমস্যা কোন জায়গায় সেটা জানাবেন। যদি এই উদ্যোগ সফল হয় তাহলে লাইনের সমস্যার স্থানটি দ্রুত চিহ্নিত হবে এবং দ্রুত সমাধান করে স্বল্প সময়ে বন্ধ লাইন চালু করা যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ১৮০৬টি গ্রামে ৭৭১৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২১৫ জন গ্রাহককে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ।

ভাটপাড়া গ্রামের গ্রাহক নজরুল ইসলাম মোল্যা জানান, ঝড়-বৃষ্টির দিনে গাছের ডাল বা বাঁশ পড়ে তার ছিঁড়ে যায়, লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ঐ সময়ে কখনো ২-৪ ঘণ্টা বিদ্যুত্ সঞ্চালন বন্ধ থাকে, অনেক সময়ে কয়েক দিনও বন্ধ থাকে। এলাকাভিত্তিক অভিযোগ কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ তৈরি করাতে আমরা সহজেই তাদের জানাতে পারব সমস্যার কথা। লেলিন নামে আরো একজন জানান, লোডশেডিং এখন তেমন নেই যা আছে তা লাইনের সমস্যার কারণে। সেটা সমাধানে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে সাধারণ গ্রাহকরা উপকৃত হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, এজিএম হাফিযুর রহমান, এজিএম হাবিবুর রহমান, এলাকা পরিচালক প্রকৌশলী আবুল বাশার, ফজলুল হক, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।