আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষক

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৮

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাটমোহরের কৃষকরা। ধানের দাম কম, শ্রমিক সঙ্কট ও মজুরি বৃদ্ধিকে দায়ী করছে কৃষি বিভাগ। এ অবস্থায় ধানের উত্পাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না- জানালেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

আমন চাষি সুরুজ আলী বলেন, “আমন আবাদে এ বছর এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ৫২০ টাকা। এর মধ্যে জমি চাষ, বীজ কেনা, শ্রমিকের মজুরি ও সার খরচ রয়েছে।  ১ বিঘা ৩ কাঠা জমিতে আবাদ করেছি। ধান ঘরে তুলতে লাগবে আরো ১ হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। তিন/চার জন কামলা (শ্রমিক) লাগবে ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শেষ করতে। সব মিলিয়ে ধান ঘরে তুলতে খরচ পড়বে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। গত বছর পেয়েছিলাম সোয়া সাত মণ ধান। বাজারদর ছিল ৫০০-৫৫০ টাকা মণ। এ বছর ধান কত মণ হবে, আল্লাহই ভালো জানেন। সাত/আট মণের বেশি হবে না”।

বুধবার নতুন বাজার হাটে চারা বিক্রি করছিলেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এক বোঝা চারা বিক্রি করছেন ২৫০-৩০০ টাকা দরে। এক বোঝায় ৩৫-৪০ আঁটি চারা থাকে। ১৫০ টাকা বোঝা দাম হাঁকাচ্ছিলেন আরেক চারা বিক্রেতা মহরম হোসেন। এক বোঝার ভেতরে রয়েছে ১২-১৫ আঁটি চারা। মহরম হোসেন গুনাইগাছা গ্রামের কৃষক। বিলচলন ইউনিয়নের বওশা এলাকার আমন চাষি আকবর আলী জানান, এক বোঝা চারা কিনেছি ২৮০ টাকায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, ধান দাম কমে যাওয়ায় আমন ধানের আবাদ কমছে। আরেকটি বড়ো বাধা শ্রমিক সঙ্কট ও বেশি মজুরি। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য চারার দাম বেড়ে গেছে।