সুশান্ত কুমার রায়
হরীতকী অসাধারণ ভেষজগুণে সমৃদ্ধ একটি উদ্ভিদ। দেশের ঔষধি ফলসমূহের মধ্যে হরীতকী গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিফলার তিনটি ফলের একটি। আয়ুর্বেদ চিকিত্সকদের মতে, হরীতকী হচ্ছে সর্বরোগের ওষুধ। প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে ভেষজ চিকিত্সাব্যবস্থায় এর প্রচলন রয়েছে। বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia chebula। বাংলাদেশ ও ভারত এর আদি নিবাস।
হরীতকী বৃক্ষ জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। সাধারণত গাছ ৭০ থেকে ৮০ ফুট উঁচু হয়ে থাকে । পাতা ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা, সরল, প্রতিমুখ, ডিম্বাকার বা আয়তাকার, আকারে অনেকটা জামরুলের ছোট পাতার মতো। ফাগুন ও চৈত্র মাসে গাছের পাতা ঝরে যায় এবং অল্প দিনের মধ্যে নতুন পাতা হয়। গ্রীষ্মকালে ফুল ও শীতকালে ফল হয়। ফুল সাদা বা পীত বর্ণের উগ্রগন্ধ বিশিষ্ট, রং হালকা হলুদাভ সাদা। ফল লম্বাটে, মোচাকৃতি। কাঁচা ফল সবুজ, পরিপক্ব ফল হালকা হলুদ। ফল শুকালে কালচে খয়েরি রং হয়। ফল ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি লম্বা হয় এবং এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত পরিপুষ্ট হরীতকীর ওপরের অংশে গাঢ় বাদামি রঙের লম্বা পাঁচ-ছয়টি শিরা থাকে। ফলের ত্বক ভীষণ শক্ত। এই ফল বছরের পর বছর ভালো থাকে। ফলের বাইরের আবরণ কুঁচকানো। ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি ফলের ভেতরে একটি মাত্র শক্ত বীজ থাকে। ফল আপনাআপনি গাছ থেকে ঝরে পড়ে। হরীতকী গাছের কাঠ খুব মজবুত। এই কাঠ ফ্রেম, খুঁটি ও বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরিতে উপযোগী।
হরীতকী কষ্টা ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত। ট্যানিন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্রুকটোজ, সাকসিনিক অ্যাসিড এবং বিটা সাইটোস্টেরল সমৃদ্ধ। রক্তচাপ এবং অন্ত্রের খিঁচুনি হ্রাস করে। হূদপিণ্ড ও অন্ত্রের অনিয়ম দূর করে। নতুন ও পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, অবসাদ এবং অধিক ওজনের চিকিত্সায় ব্যবহূত হয়। হরীতকীর ফলে প্রচুর পরিমাণে ট্যানিন আছে—তাই লেখার কালি, শ্যাম্পু ও চুলের কলপ তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে।
