রাজশাহীতে স্কুলশিক্ষকের শত কোটি টাকার সম্পত্তি!

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪১

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীতে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। জেলার চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি জোতকার্তিক বিএন স্কুলের ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমতি না নিয়ে একাধিক বহুতল বাড়ি করায় আরডিএ চেয়ারম্যানকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে শিক্ষক এএইচএম কামরুজ্জামান মুকুলকে একজন ‘শিক্ষা ব্যবসায়ী’ ও ‘সনদ বাণিজ্যকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি রাজশাহী শহরে নিজের, স্ত্রীর ও আত্মীয়-স্বজনের নামে তিনটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঁচটি বহুতল বাড়ি ও একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়া গ্রামে রয়েছে তার বাগান, আবাদি জমি ও পুুকুর। সবমিলিয়ে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক মুকুল চড়েন দামি গাড়িতে। জানা গেছে, মুকুল নগরীর সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ। এছাড়া তিনি নগরীর সিটি পলিটেকনিক অ্যান্ড টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নগরীর রাজপাড়ার আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিকও তিনি। যার অধ্যক্ষ তার স্ত্রী মারুফা খাতুন। সূত্র জানায়, উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তেমন আসে না; নিয়মিত ক্লাসও হয় না। প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারীও নেই। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরকরেই তিনি এখন অঢেল সম্পদের মালিক। নগরীর নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মুকুল চারঘাটের স্কুলে ঠিকমতো যান না। তবে তিনি মাসে একবার গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। নগরীর গৌরহাঙ্গায় তার স্ত্রীর নামে পাশাপাশি তিনটি বাড়ি আছে।

আরডিএর বিল্ডিং ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে মুকুলের স্ত্রীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নগরীর পদ্মা আবাসিকের হজর মোড়ে তার চতুর্থ এবং পঞ্চম বাড়ি রয়েছে। প্ল্যান পাস ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করায় বাড়িটির সামনে বেশকিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে আরডিএ। নগরীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে মুকুলের চারতলার বিশাল মার্কেট রয়েছে। তবে মার্কেটটি শ্যালক বেলাল খান ও লাল খানের নামে কেনা। সবমিলিয়ে স্কুল শিক্ষক মুকুল প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক। নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুজ্জামান মুকুল বলেন, গৌরহাঙ্গার বাড়িগুলো তার স্ত্রী মারুফা খাতুন বাবার টাকায় কিনেছেন। পদ্মা আবাসিকের দুটি বাড়ি নির্মাণে তার বাবা এবং আমেরিকা প্রবাসী ভাই বিনিয়োগ করেছেন। মার্কেটটি তার দুই শ্যালকের। গ্রামের বাড়িতে তার কোনো জমি ও পুকুর নেই। একটি মহল তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।