ভিক্টর পরিবহনের বাসচাপায় কণ্ঠশিল্পী পারভেজ রবের নিহতের ঘটনায় আপস-মীমাংসার একপর্যায়ে ঐ পরিবহনের আরেকটি বাস পিষে মারল তার ছেলের বন্ধু মেহেদী হাসান ছোটনকে (২০)। এ ঘটনায় পারভেজ রবের ছেলে ইয়ামিন আলভীও গুরুতর আহত হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গত শনিবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার কামারপাড়ায় পারভেজ রবের বাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পরিবহনের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা পারভেজ রব নিহতের ঘটনায় আপস-মীমাংসার জন্য গিয়েছিল।
উত্তরা পশ্চিম থানায় শনিবার রাতে নিহত ছোটনের মামাতো ভাই ফিরোজ আলম বাদী হয়ে ঘাতক বাসের চালক রফিকুল ইসলাম, সহকারী সোহেল ও মোমেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ভিক্টর পরিবহনের ঘাতক বাসটি আটক করেছে, গ্রেফতার করেছে চালক রফিকুল ইসলামকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার ইস্টওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজের সামনে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান পারভেজ রব। তিনি প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক আপেল মাহমুদের চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় পারভেজ রবের পরিবারের লোকজন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় বসেন। ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে ভিক্টর পরিবহনের বাসচালক রফিকুল ইসলামকে মারধর করেন পারভেজ রব পক্ষের লোকজন। রফিকুল যে বাসে উঠে সেই বাস তাদের ওপর উঠিয়ে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। এতে আলভী ও তার বন্ধু ছোটন গুরুতর আহত হন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, নিহত সংগীত পরিচালক পারভেজ রবের ছেলে আলভী ও তার বন্ধু ছোটনসহ বেশ কয়েক জন উত্তরা কামারপাড়ায় তাদের বাসার সামনে ভিক্টর পরিবহনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে সেখানে থাকা ভিক্টর পরিবহনের এক চালক রফিকুল ইসলামকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে চালক রফিকুল ইসলাম বাস টান দিলে গাড়ির নিচে চাপা পড়েন ছোটন ও আলভী। পরে দুজনকেই দ্রুত উদ্ধার করে নিকটের হাসপাতাল নেওয়া হয়। সেখানে শনিবার রাত ১১টার দিকে ছোটন মারা যান। গুরুতর আলভীকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
ওসি তপন আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসচালক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, হঠাত্ তাকে মারধর করায় তিনি আত্মরক্ষার্থে গাড়ি টান দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পারভেজ রব নিহত হওয়ার ঘটনাটি তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত করছে। অপর দিকে মেহেদী হাসান ছোটন নিহতের মামলা উত্তরা পশ্চিম থানায় হয়েছে। এ মামলাটিও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত। তবে তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এ ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক ছিল কি না।
নিহত পারভেজ রবের বন্ধু আলী আসরাফ আখন জানান, আলভীর অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে। রবিবার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আলভীর বন্ধু কাওসার বলেন, বৈঠকে মালিকপক্ষের একজন ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয় লোকজন তা না মেনে পারভেজের দুই ছেলের জন্য দুটি গাড়ি বা ২০ লাখ টাকা চান। নিহত ছোটন উত্তরা টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
আলভীর মা রুমা সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী হারানোর শোকের মধ্যে ছেলেকেও হারাতে বসেছি। আমি কোথায় যাব, কার কাছে যাব? সমঝোতা করতে চাইনি বলেই ওরা হত্যার চেষ্টা করল। আমার ছেলে না মরলেও তার বন্ধু মারা গেল। ছেলে এখন পঙ্গু।
