নগর সংস্কৃতি

চিত্রশালায় ১২ দেশের দারুকারু শিল্পের প্রদর্শনী

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:০৬

কোনটি কাঠ খোদাই করে, কোনটি নির্মিত হয়েছে সিরামিকে, কোনটি আবার ভেসে উঠেছে ট্যাপেস্ট্রিতে। কারুশিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে ভাস্কর্য থেকে মৃিশল্প এবং দারুশিল্প। দেশ-বিদেশের বিচিত্র শিল্পসম্ভার নিয়ে শিল্পকলা  একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৩ নম্বর গ্যালারিতে চলছে ‘ব্রিলিয়ান্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কারুশিল্প প্রদর্শনী। বাংলাদেশসহ বারো দেশের শিল্পীর শতাধিক শিল্পীর কাজ স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। চতুর্থতম এই আন্তর্জাতিক কারুশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এ্বং চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংহাই আর্ট এ্যান্ড ডিজাইন একাডেমি। সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

শনিবার সকালে একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে আটদিনব্যাপী প্রদর্শনী ও সেমিনার কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর সান ইয়ান ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক নিসার হোসেন ও সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন অনুষদের ডিন লু জিয়াও বো। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। প্রদর্শনীতে  অংশগ্রহণকারী ১২ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইরান, জাপান, কেনিয়া, কোরিয়া, শ্রীলংকা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এই বারো দেশের শিল্পীদের শতাধিক শিল্পকর্ম ঠাঁই পেয়েছে প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন চীন, ভারত, শ্রিলংকার শিক্ষক ও শিল্পীবৃন্দ । বাংলাদেশ থেকে এ কার্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কারুশিল্প, মৃিশল্প ও ভাস্কর্য মাধ্যমের শিক্ষকরা অংশ নিচ্ছেন। আগামী  ১৫ ডিসেম্বর  পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।  প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।

৬৪টি জেলায় স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব শুরু

শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় শুরু হলো ‘বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব ২০১৮’। ৪৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং ২২টি প্রামাণ্যচিত্র মিলিয়ে আটদিনের এই উত্সবে প্রদর্শিত হচ্ছে ৭০টি চলচ্চিত্র। গতকাল বিকেলে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন তথ্যসচিব আবদুল মালেক, সংস্কৃতিসচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এবং বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহিম অঞ্জন। স্বাগত বক্তৃতা দেন একাডেমির সচিব এবং নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক মো: বদরুল আনম ভূঁইয়া। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতাশেষে প্রদর্শিত হয় সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও একটি প্রামাণ্যচিত্র। ১৫ ডিসেম্বর শেষ হবে এই উত্সব।

আনোয়ার হোসেনের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ করবে ফাউন্ডেশন

সদ্যপ্রয়াত ক্যামেরাশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার  হোসেনের ধারণকৃত আলোকচিত্র, রচনা, সাক্ষাত্কারসহ যত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রয়েছে তা সংরক্ষণ, প্রচার  এবং এর আইনগত দিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘আনোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশন’ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। আনোয়ার  হোসেন ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি থাকবেন আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মারিয়াম এবং দুই পুত্র আকাশ হোসেন ও মেঘদূত হোসেন। এই ফাউন্ডেশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন আনোয়ার হোসেনের ছোটভাই আলি হোসেন বাবু এবং অন্যান্য ট্রাস্টিগণের মধ্যে থাকবেন নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী, চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম, সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ জামান, চলচ্চিত্রকার রাজীবুল হোসেন এবং ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন। গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

হেমন্তের সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের গান

কবিগুরুর গান কণ্ঠে তুলে নিয়ে জাদুঘরে সুরের ঝর্ণাধারা বইয়ে দিলেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সেমন্তি মঞ্জুরি।  ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের (আইজিসিসি) আয়োজনে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বসে শিল্পী সেমন্তি মঞ্জুরির একক সঙ্গীত আসর।  সঙ্গীত পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ড. নীপা চৌধুরী।