মানিকগঞ্জে বিক্রয়নিষিদ্ধ পোনা মাছ বিক্রি হচ্ছে অবাধে। পোনা মাছ অবাধে নিধন করার ফলে একদিকে যেমন মা-মাছ বিনষ্ট হচ্ছে অপরদিকে মাছের বংশবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। সরকারিভাবে এসব পোনা মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও পৌর শহরের মাছ বাজারে, উপজেলার হাটবাজারগুলোতে, এমনকি জনবহুল স্থানে রাস্তার ধারেও প্রকাশ্যে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দুইটি মাছের আড়ত রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সিংহভাগই হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির বড়ো মাছের পোনা। এদিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ উদযাপন করলেও অবৈধভাবে মাছের পোনা নিধন বন্ধে তাদের তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। তবে মত্স্য অধিদপ্তর বলছে, পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরিদ্র মত্স্যজীবীদেরকে সরকারি রেশনের আওতায় না আনতে পারলে পোনা মাছ নিধন বন্ধ করা যাবে না। দুই মাস এই পোনা মাছ নিধন বন্ধ রাখতে পারলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উত্পাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে, জেলেরাও লাভবান হবে। তবে মত্স্য অফিসের সক্রিয় ভূমিকা না থাকায় অবাধে চলছে পোনা মাছ নিধন।
মাছের প্রজনন মৌসুম জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ ইঞ্চির নিচে রুই, কাতলা, কালিবাউশ, কালিয়া, মৃগেল জাতীয় মাছ ধরা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও এটি মানছেন না স্থানীয় মত্স্যজীবীরা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিলে নিষিদ্ধ কোনাজাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন জাতের পোনা মাছ নিধন করছেন তারা। এভাবে কোনাজাল ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে মিঠা পানির দেশীয় প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বেউথা মাছের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব মাছ ব্যবসায়ীই পোনা মাছ বিক্রির জন্য থালায় সাজিয়ে বসে আছে। এ সময় মাছ ব্যবসায়ীদের ড্রাম ও মাছের বড়ো পাত্রেও (বোল) বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা দেখা যায়। পোনা মাছ বিক্রেতারা বলেন, আমরা পোনা মাছ ধরিনি। জেলেরা নিয়ে এসেছে, আমরা কিনে রেখেছি। কথা হয় এক জেলের সঙ্গে। তিনি অকপটে স্বীকার করলেন, কোনাজাল দিয়ে পোনা মাছ ধরেছেন তারা। পোনা মাছ কেন মারছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে অন্য কোনো মাছ জালে ওঠে না। পোনা মাছ না ধরলে বাচ্চাদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ড. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের লোকবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তা সত্ত্বেও পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু পোনা মাছ জব্দ করে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্যার পানি কমার কারণে পোনা মাছ উন্মুক্ত স্থানে চলে গেছে। হয়তো জেলেরা এগুলো বিক্রি করছে।
