জমকালো জামদানি উত্সব

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৭

 

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে গত শুক্রবার থেকে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উত্সব। এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের বয়নশিল্পীদের অপরিসীম দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নৈপুণ্যের সাক্ষ্য তুলে ধরতে। প্রদর্শনী উপলক্ষে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ বয়নশিল্পী ও তাদের সহকারীদের ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে।

প্রদর্শনীটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ উত্সবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী এবং ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট ড. গাদা হিজাউয়ি-কাদুমি। এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামদানি উত্সবের কিউরেটর চন্দ্র শেখর সাহা ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অতিথিদের বক্তব্য প্রদানের পর প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত ক্যাটালগের মোড়ক উন্মোচনের জন্য মঞ্চে আসেন বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসনাত, বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সভাপতি রুবী গজনভী এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। এরপর পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জামদানি বয়নশিল্পী ও তাদের সহকারীদের ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ওস্তাদ মো. সজিব হোসেন ও সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মোতালিব ও সহকারী নুর আলম, মো. মুনির ও সহকারী আবু বকর, ওস্তাদ মো. সিদ্দিক ও সহকারী মাকসুদা এবং মো. জামাল ও সহকারী শাকিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খালিদ হোসেন ও মালিহা মাজিন খান। 

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জামদানি বয়নশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মৌলিক, উত্কৃষ্ট ও অন্যতম অংশ। অসাধারণ নকশায় সমৃদ্ধ জামদানি বস্তুত মসলিনেরই একটি প্রকার, যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের বয়নশিল্পীদের হাতে অনবদ্য শিল্পকর্মে রূপ নিয়েছে। ষষ্ঠদশ শতকে মুঘল শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার নন্দিত মসলিন হয়ে ওঠে সৃজনসৌকর্যে উত্কৃষ্ট নকশাদার জামদানি। পারসিক মোটিফের সঙ্গে বাংলার নিসর্গের ফুল-ফলের নকশা সংযোজন করে বয়নশিল্পীরা জামদানিকে করে তোলেন অনিন্দ্যসুন্দর। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে এই অঞ্চলে এবং ইউরোপে ও ইংল্যান্ডে পুরুষ ও মহিলাদের সৌখিন বস্ত্র হিসেবে জামদানি অত্যন্ত আদরণীয় ছিল। বর্তমানেও মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জামদানি অপরিহার্য পরিধেয়। উনিশ শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে শুরু হয় জামদানি শিল্পের ক্রম-অবনতি। ক্ষয়িষ্ণু মুঘল রাজশক্তির প্রেক্ষাপটে জামদানি বয়নশিল্পীরা বঞ্চিত হন জরুরি পৃষ্ঠপোষকতা থেকে। আদি জামদানির অভূতপূর্ব মূলানুগ অনুকরণে সমর্থ এদেশের বর্তমান প্রজন্মের বয়নশিল্পীদের অসামান্য কুশলতা তুলে ধরতেই বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে জামদানি উত্সব। জামদানি উত্সবের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওকে ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ক্রাফট সিটি’র মর্যাদালাভের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

স্থান :বেঙ্গল শিল্পালয়, বাড়ি ৪২, রোড ২৭, শেখ কামাল সরণি, ধানমন্ডি, ঢাকা। সময় :প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। প্রদর্শনী চলবে :১২ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত।

ছবি তন্ময় মির্জা