রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মরা তিস্তায় খলিলের ঘাটে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে তিন ইউনিয়নের সাত গ্রামের মানুষ। এভাবেই কেটে যাচ্ছে স্বাধীনতার পর ৪৮টি বছর। এলাকাবাসী একাধিকবার আবেদন করেও সেতু নির্মাণের কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়ন, রংপুরের কাউনিয়ার হারাগাছ ও শহীদবাগ ইউনিয়নের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ স্থাপনকারী চাংড়া-শহীদবাগ ক্রোসবাঁধ সড়কের মধ্যে খলিলের ঘাটে এলাকাসী নৌকা করে পারাপার হতো। স্থানীয় মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশ সংগ্রহ করে ঐ স্থানে এক বছর আগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। যা ছয় মাসের মধ্যেই নড়বড়ে হয়ে যায়। ঐ পথে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ঠিকানার হাট, পাগলার হাট, চাংড়া, কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের চর নাজিরদহ, চর পল্লিমারী ও শহীদবাগ ইউনিয়নের চর প্রাণনাথ, বল্লভবিষ্ণুসহ সাত গ্রামের ৩০ সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সাধারণ মানুষ, ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ঐ বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করলেও অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়ছে এলাকাটি। বিশেষ করে কৃষিপণ্য হাটবাজারে নিতে কৃষককে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
চাংড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম মাস্টার বলেন, দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে সমন্বয় হলে দ্রুত পাকা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো।
শহীদবাগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোলেমান মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হজ পালন করে ফিরে এলে সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. উলফত্ আরা বেগম বলেন, ‘এলাকাবাসী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’
