বিদ্যুত্ যাওয়া-আসায় ভোগান্তি শহরবাসীর!

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫২

ঝিনাইদহ শহরের পুরোনো ডিসি অফিসের পাশের একটি মিষ্টির দোকান। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে বিদ্যুত্ চলে যায়। ২ মিনিট পর ৮টা ৫৩ মিনিটে বিদ্যুত্ আসে। ৮টা ৬ মিনিটে ফের বিদ্যুত্ চলে যায়। ৮টা ৯ মিনিটে ফের আসে। শুধু ঝিনাইদহ জেলা শহর নয়। সারা জেলা জুড়ে দিনে-রাতে এভাবে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলতে থাকে। ঝিনাইদহ জেলায় গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পাচ্ছে না। বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

 এখন আর ঝিনাইদহে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। বিদ্যুতের সাব স্টেশনগুলো চাহিদা মতো জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুত্ পাচ্ছে। ঝিনাইদহ গ্রিড সাব স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১২৫ মেগাওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট। চাহিদার সবটুকুই জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এখন আর লোডশেডিং করতে হয় না। তবে সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পাচ্ছে না। বিদ্যুত্ সাপ্লাই লাইনগুলো বাগানের ভেতর দিয়ে গাছাপালার নিচ দিয়ে গেছে। গাছের ডাল লাইনের ওপর পড়লে বা গাছ ভেঙে পড়লে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার লাইন ফল্টের কারণেও বিদ্যুত্ চলে যাচ্ছে। আর এ সব ঘটনা অহরহ ঘটছে। কোনো কোনো সময় ট্রান্সফরমার ওভার লোডিং এর জন্য বিদ্যুত্ চলে যাচ্ছে। এতে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। লাইনের ওপর গাছের ডাল বা ভেঙে পড়া গাছ না সরানো পর্যন্ত বিদ্যুত্ চালু করা যায় না। আবার লাইন ফল্টের কারণে বিদ্যুত্ গেলে কোথায় ফল্ট হয়েছে তা খুঁজে বের করতে সময় লাগে। কোনো কোনো সময় ৫-৭ ঘণ্টাও লেগে যায়। রাতের বেলায় হলে বেশি সময় লাগে। জেলার ৫ পৌর এলাকা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অধীন।

পৌরসভার বাইরের গ্রামগুলো পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে। আর ওজোপাডিকোর গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার। ঘন ঘন বিদ্যুত্ যাওয়া-আসায় টিভি, ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ক্ষতি হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আব্দুল লতিফ জানান, লোডশেডিং নেই। কিন্তু বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা- যাওয়ায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, দিনে-রাতে ৫-৭ বার বিদ্যুত্ আসা যাওয়া করে। বকশীপুরের গ্রাহক আসাদুজ্জামান বলেন, তাদের এলাকায় দিনে-রাতে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে না। শৈলকুপার শহরের বিদ্যুত্ সামগ্রী বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঘন ঘন বিদ্যুত্ আসা-যাওয়ার কারণে টিভি ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ক্ষতি হচ্ছে।

ঝিনাইদহ চেম্বারের পরিচালক মাহমাদুল ইসলাম ফোটন জানান, বিদ্যুত্ নিয়ে দুর্ভোগে আছে ব্যবসায়ীরা। দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। কিন্তু ঝিনাইদহের গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পাচ্ছে না।

ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুতের জিএম মো. আব্দুল লতিফ বলেন, লাইন ফল্টের কারণে বিদ্যুত্ থাকে না। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে বিদ্যুত্ আসা-যাওয়া করে।’