মেহেদী হাসান মিরাজের রিভিউ নেওয়ার সমালোচনা করলেন। সৌম্য সরকারের প্রান্ত বদল করার নিন্দা করলেন। দলের সবারই মাঠে নিজেদের প্রয়োগ করার ক্ষমতা নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিলেন সাকিব আল হাসান। বললেন, শেষ বিকেলে খেলার শুরুতে, প্রথম বলেই অমন শট করে উইকেট দিয়ে এসে তিনিই পরাজয়টা ডেকে এনেছেন। সাকিব সবকিছু বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বললেন, ক্রিকেটকে তিনি নেতৃত্ব যদি দেনই, তবে দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো নিয়ে কর্তাব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করবেন।
এই ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে সাকিব বললেন, ‘আমারই দোষ বেশি। আমি প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছি, এরপর বাকিদের কাজটা আরো অনেক কঠিন হয়ে গেছে। দায়িত্ব অনেকটা আমার ওপরেই পড়ে, প্রথমে আমার ঐ কাট না মারলেও হতো। আসলে না মারার মতোই ছিল। কিন্তু শট খেলে ফেলেছি, দল অনেক বেশি চাপে পড়ে গেছে। আমি যেহেতু উইকেটে ছিলাম আমারই দায়িত্ব ছিল মূল ভূমিকাটা পালন করার। যেহেতু প্রথম বলে আউট হয়েছি, দলের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে গেছে।’
নিজের আউটটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাকিব বলছিলেন, তিনি ঐ সময় একটু বেশি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন, ‘মানসিকতা ঐ সময় যেটা ছিল, স্বাভাবিকভাবে ঐ সময় আমার কাছে নার্ভাসনেস অনেক বেশি কাজ করছিল। যেহেতু আমাদের হাতে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মতো সময় ছিল। দুপুরে কিন্তু অতটা নার্ভাস লাগেনি। আমি চেয়েছিলাম প্রথম বলটা ভালোভাবে ফেস করি। কিন্তু সেটা হয়নি, শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে গেছি। তাই আমারই দোষ।’
সাকিব একটু বড় করে ভাবতে গিয়ে বললেন, টেস্ট ক্রিকেটে তো বটেই, ক্রিকেটে তাদের এখন ধারাবাহিক হওয়ার প্রথম শর্ত হলো, খেলোয়াড়দের আরো মান বাড়াতে হবে। নিজেদের সমালোচনা করেই তিনি বলছিলেন, সেটা বাড়াতে না পারলে উইকেটে সুবিধা নিয়ে জেতা ছাড়া উপায় নেই, ‘আমরা যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে চাই, তাহলে প্লেয়ারদের কোয়ালিটি আরো বাড়াতে হবে। তা না হলে, আমাদের ওরকম সুবিধা, ফেবার এ জিনিসগুলো নিয়ে রেজাল্ট করতে হবে।’
সবমিলিয়ে নিজের পাশাপাশি গতকাল যারা শেষ সময়ে ব্যাটিং করেছেন, তাদের সমালোচনাটাও কম করলেন না অধিনায়ক। বলছিলেন, ‘তাইজুলের আউটটা ধরেন ব্যাট প্যাড ছিল, কিন্তু মিরাজ এর আগেই রিভিউ নিয়ে নিয়েছে। ওটা যে এক দিন ক্রিকেট খেলেছে তারও বোঝা উচিত, ওটা প্লাম্ব আউট। স্বভাবিকভাবেই রিভিউ থাকলেও সেটা পরে নিতে পারত, সেটা আমাদের হেল্প করত। তাইজুল আগের ইনিংসেও ভালো ব্যাট করেছিল। অনেকক্ষণ ডিফেন্স করে রেখেছিল। এই ধরনের ভুল ভ্রান্তিগুলো প্রায়ই হয়। সৌম্য যখন রান নিয়ে মাথায় হাত দিচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে সে বুঝতে পারছে না তার রোলটা কী। তার কী করা উচিত। তো এখানে অনেক কিছু শেখার আছে, আর বোঝার আছে। তো কতদিন যে এটা শিখতে লাগবে, সেটাই বড় ব্যাপার।’
স্কোরকার্ড
(একমাত্র টেস্ট ম্যাচ, পঞ্চম দিন)
টস : আফগানিস্তান
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ১১৭ ওভারে ৩৪২
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৭০.৫ ওভারে ২০৫
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ৯০.১ ওভারে ২৬০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস রান বল চার ছয়
সাকিব কট আফসার বোল্ড জহির ৪৪ ৫৪ ৪ ০
মাহমুদউল্লাহ কট ইব্রাহিম বোল্ড রশিদ ৭ ২১ ০ ০
সৌম্য কট ইব্রাহিম বোল্ড রশিদ ১৫ ৫৯ ২ ০
মিরাজ এলবিডব্লিউ রশিদ ১২ ২৮ ১ ০
তাইজুল এলবিডব্লিউ রশিদ ০ ৬ ০ ০
নাঈম হাসান অপরাজিত ১ ৮ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ৪, লেবা ২) ৬
সর্বমোট (৬১.৪ ওভার) ১৭৩
বোলিং:
ইয়ামিন ৪-১-১৪-০, নবী ২০-৫-৩৯-০, রশিদ খান ২১.৪-৬-৪৯-৬, জহির খান ১৫-০-৫৯-৩, কায়েস আহমেদ ১-০-৬-০।
ফলাফল : আফগানিস্তান ২২৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রশিদ খান (আফগানিস্তান)
