‘এই জয় বিশ্বকে একটা বার্তা’

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৩

ব্যাট হাতে একটা ফিফটি করলেন। বল হাতে দুই ইনিংসে তুলে নিলেন ১১ উইকেট। সবচেয়ে বড়ো কথা, আফগানিস্তান দলকে তার ইতিহাসের সেরা জয়ে নেতৃত্ব দিলেন। এমন দিনে রশিদ খানেরই মঞ্চটা আলোকিত করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি দেখালেন দারুণ এক শ্রদ্ধার নিদর্শন। সংবাদ সম্মেলনে পাঠিয়ে দিলেন সাবেক অধিনায়ক ও এই টেস্ট থেকেই অবসর নেওয়া অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীকে।

নবী নিজেকে নিয়ে কথা বলায় খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না। তিনিও ভেসে যাচ্ছেন দলের প্রাপ্তিতে। বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশাল এই জয়ের পর অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড় বলছিলেন, এই জয়টা বিশ্বের প্রতি আফগানিস্তানের একটা শক্ত বার্তা।

দলের জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে নবী বলছিলেন, ‘খুবই আনন্দদায়ক একটা জয়। আমরা এই ফরম্যাটে নতুন। আমরা খুব বেশি বড়ো দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলিনি। ফলে আমাদের নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। কিন্তু এই জয়টা বিশ্বে আমাদের নিয়ে শক্ত একটা বার্তা দেবে। আমরা যে এই ফরম্যাটে খুব ভাল করতে এসেছি, তা প্রমাণ করবে।’

নবী মনে করেন, তারা এই টেস্টকে মাথায় রেখে যে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন, সেটাই আসলে জয়ের মূল রহস্য। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা আরব আমিরাতে ক্যাম্প করেছি। ওখানে খুব গরম ছিল। ফলে এখানে এসে আমাদের মানিয়ে নিতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। এখানে আদ্রতা একটু বেশি হলেও গরম বেশি নয়।’

আরেকটা ব্যাপার তাদের সহায়তা করেছে বলে নবী বলছিলেন। তিনি এবং রশিদ নিয়মিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলেন। ফলে বাংলাদেশের প্রায় সব খেলোয়াড়কে তারা খুব ভালো চেনেন। এটা তাদের উপকৃত করেছে বলে বলছিলেন তিনি, ‘আমরা দুই জন নিয়মিত বিপিএল খেলি। বাংলাদেশের সব খেলোয়াড়কে আমরা চিনি। এ কারণে আমাদের পরিকল্পনা করাটা সহজ হয়েছে।’

তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য আসল কৃতিত্বটা দিলেন নবী অধিনায়ক রশিদ খানকে। পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব দিয়ে রশিদ জয় করে নিয়েছেন দলের সবার মন, ‘আমাদের বিশ্বকাপে আগে নতুন অধিনায়ক করা হলো। সে (গুলাবদিন) আগে কখনও অধিনায়কত্ব করেনি। ফলে আমরা বিশ্বকাপে ভালো করতে পারিনি। কিন্তু রশিদ অসাধারণ অধিনায়ক। সে তরুণ এবং সেরা পারফরমার। তার বোলিং কেউ সহজে ধরতে পারে না। সে অন্য ধরনের বোলার। তার সেরা বোলিংই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে।’

শেষ বেলায় নিজেকে নিয়ে না বলে অবশ্য পারলেন না। এই ম্যাচ দিয়েই বিদায় নিচ্ছেন নবী। কেনো বিদায় নিচ্ছেন, সেটা বলতে গিয়ে বললেন, ‘আমি দশ বছর ধরে আফগানিস্তানের ক্রিকেটের সাথে আছি। আমাদের স্বপ্ন ছিল, টেস্ট খেলব। সে জন্য আমরা নিজেদের প্রস্তুত করার খুব সময় পাইনি। আমরা এই সময়ে তিনটি কন্টিনেন্টাল কাপ খেলে দুই বার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্সআপ হয়েছি। আমি ভাগ্যবান যে, আফগানিস্তানের এই অসাধারণ যাত্রায় আমি সঙ্গী ছিলাম। এখন আমি মনে করছি, টেস্টে আফগানিস্তানের নতুন প্রজন্মকে তৈরি করার সময় এসেছে। তাই নতুনদের জায়গা করে দিতে সরে যাচ্ছি। আমি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করবো ।’