পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত পানির পরিমাণ প্রায় ৩৩৮.১৭ মিলিয়ন কিউবিক মাইল। কিন্তু এই পানি বেশির ভাগই আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য। কারণ মোট পানির প্রায় ৯৭ ভাগ পানিই লোনা। বাকি ৩ ভাগ মৃদু পানির আবার ৯৭ শতাংশ হিমবাহ ও বরফ আকারে গ্রিনল্যান্ড, সাইবেরিয়া ও হিমালয়ে জমা আছে। বাকি ৩ শতাংশ মৃদু পানি নদী-নালা,খাল-বিল ও বৃষ্টিরূপে প্রকৃতিতে রয়েছে। আমরা আমাদের দৈনিন্দন জীবনে নানা কাজে মৃদু পানি ব্যবহার করে থাকি। আর এই জন্য আমরা প্রতিদিন ব্যাপক হারে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করি, যা আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির এত উত্তোলন আমাদের এক নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর ৩ মিটার করে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ২০০৬-১২ সালে রাজশাহী অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে প্রায় ৭৫ ফুট। তা ছাড়া, শহর অঞ্চলগুলোতে জলাশয়গুলো ভরাট করে নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে বৃষ্টির সময় পানি জমে রাস্তাঘাট ডুবে যাচ্ছে। এভাবে নানা কংক্রিটের স্থাপনার কারণে বৃষ্টির পানি মাটিতে পৌঁছাতে পারে না। আগে দেখা যেত বৃষ্টির পানি মাটির মাধ্যমে ভূগর্ভে চলে যেত। বর্তমানে তা না হওয়ায় পানি ভূগর্ভে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে ক্রমাগত ভূগর্ভের পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। আর দিন দিন মৃদু পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে ধীরে ধীরে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত আইলার পর থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, পাইকগাছা, সাতক্ষীরা অঞ্চলগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পানির অপচয় থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি অবিবেচকের মতো জলাশয় ভরাট করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। যে পরিমাণ পানি আমরা ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করি, সে পরিমাণ পানি যেন ভূগর্ভে ফেরত যায়—সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেচ সাশ্রয়ী ফসল উত্পাদন করতে হবে। দেখা যায় মৃদু পানির বেশির ভাগ অংশই আমরা খরচ করে ফেলি সেচের উদ্দেশ্যে।
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মৃদু পানির বিকল্প উেসর সন্ধান। বৃষ্টির পানি মৃদু পানির জন্য খুব ভালো একটি উত্স। এর নানা উপকারিতাও রয়েছে। বৃষ্টির পানি হজম শক্তি বাড়ায়, ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে, বৃষ্টির পানি চুল সুন্দর করে, আলসার নিরাময় করে এবং ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে কাজ করে। তাই আমাদের বেশি করে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের দিকে নজর দেয়া উচিত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো—বাড়ির ছাদে পাইপ সংযুক্ত করে তার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি কোনো জলাধারে সংরক্ষণ করা। বৃষ্টির পানি ব্যবহারের আর একটি সুবিধা হলো এর ফলে পাম্পিং খরচ অনেক কমে যায়। বিদ্যুত্ সাশ্রয় হয়। বৃষ্টির পানি বহুলাংশে আমাদের মৃদু পানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। ১ হাজার বর্গফুট ছাদে ১ ইঞ্চি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলে প্রায় ৬০০ গ্যালন পানি জমা হয়। তাই বর্তমানে পানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বৃষ্টির পানির পূর্ণ ব্যবহারের প্রতি মনযোগী হতে হবে।
n লেখক : শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
