কিশোর অপরাধ দমনে সতর্ক হতে হবে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৩

ঢাকাসহ সারা দেশেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’ সৃষ্টি হচ্ছে অর্থাত্ আমাদের ভবিষ্যত্ এই কিশোরদের মধ্যে ব্যাপকভাবে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা এমনকি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে প্রকৃত অপরাধীরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় বড় অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা এতোই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগও থাকে না। এদের কাছে স্থানীয় প্রশাসনও অসহায়। আর এভাবেই পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। এই অবস্থা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধ দমন প্রক্রিয়াকে সকল প্রকার দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে হতে হবে দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমনে কাজ করতে হবে তাঁদের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে সব সদস্য অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কিশোর অপরাধ দমনে সকল পক্ষকেই অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। এদের সবাই কিশোর শিক্ষার্থী। অন্য অপরাধীদের মতো এদের গ্রেফতার করে, কোমরে দড়ি বেঁধে বা হাতকড়া লাগিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বা কারাগারে পাঠানো একেবারেই উচিত হবে না। এদের লেখাপড়া বন্ধ না করে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে অথবা পরিবারের সহযোগিতায় সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলে মিলেই এই প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে তাদের। এই কিশোররা যদি সমাজে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়, তাহলে তারা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে না। এভাবে দেশে অপরাধীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে, যা দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিপ্লব বিশ্বাস

গোয়ালচামট, ফরিদপুর