বাংলাদেশে চীনের আরো বিনিয়োগ চায় ডিসিসিসিআই

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৪

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ সফররত চীনের লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার বিজনেস ম্যাচ-মেকিং ৯ সেপ্টেম্বর ডিসিসিআইতে অনুষ্ঠিত হয়। চীনের লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ঝাও ইয়ানকিং-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল উক্ত বিজনেস ম্যাচ-মেকিং-এ অংশগ্রহণ করেন। বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ঝাও ইয়ানকিং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী চীনের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো বাণিজ্য সহযোগী দেশ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের সার্বিক বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৩.৮৫ শতাংশ। তিনি জানান, ঐ একই অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চীনের সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার অধিকাংশই ছিল বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, তৈরি পোশাক এবং আর্থিক খাতে। ওয়াকার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পরই কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক বাজারে আমাদের উত্পাদিত কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এখাতের বহুমুখীকরণ ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের জন্য চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষিখাতে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ডিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চীনের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিনিধিদলের প্রধান ঝাও ইয়ানকিং বলেন, লিয়াওনিং প্রদেশটি লৌহ, নিকেল, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ এবং লিয়াওনিং প্রদেশে বিশেষায়িত প্রায় ৩৯টি পণ্য উত্পাদিত হয়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও লিয়াওনিং প্রদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চেম্বারগুলোর মধ্যকার যোগাযোগ আরো বৃদ্ধির ওপর জোরারোপ করেন।

ডিসিসিআই সহসভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক এনামুল হক পাটোয়ারী, এস এম জিল্লুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।