শিল্পকারখানার নিরাপত্তামান তদারকিতে গঠন হচ্ছে আলাদা ইউনিট

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৬

শিল্পকারখানা ভবনের কাঠামো, অগ্নি, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের লক্ষ্যে গঠন করা হচ্ছে আলাদা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ইউনিট বা আইএসইউ। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) অধীনে এ ইউনিট কাজ করবে। ডিআইএফইর অধীনে বর্তমানে চলমান সংস্কার সমন্বয় সেল বা আরসিসি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে আরসিসি কেবল গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। কারখানার নিরাপত্তামান পরীক্ষায় স্বচ্ছ, সক্ষম ও গার্মেন্টসের বাইরে অন্যান্য খাত নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে এ ইউনিট গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে এ লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী দুই বছর নাগাদ এ ইউনিটের আওতায় কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অর্থায়ন হবে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে। এই দুই বছর আরসিসির প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান থাকবে। 

ডিআইএফইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে আরসিসি কেবল গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস খাতের বাইরে টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, প্লাস্টিক, স্টিল রি- রোলিংসহ অন্যান্য শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দেখভালের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এসব খাতে বেশকিছু দুর্ঘটনা অনেক প্রাণহানি ও  আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে আরসিসির মাধ্যমে পুরো খাতের কার্যক্রম  দেখভাল করা বাস্তবে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ইউনিট বা আইএসইউ নামে একটি ইউনিট গঠন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য জনবল বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান ইতিমধ্যে ঐ প্রস্তাব দুই শ্রম মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী দুই বছর পর এর কার্যক্রম শুরু হবে। এই সময়ে আরসিসির কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি বলেন, আরসিসির চাইতে আইএসইউ অনেক সক্ষম হিসেবে গড়ে উঠবে। লোকবল ও সক্ষমতা বাড়িয়ে রাজধানীর বাইরে বিভাগীয় শহরেও আলাদা কার্যালয়ের মাধ্যমে এ ইউনিট কাজ করবে।

অবশ্য গার্মেন্টস কারখানার সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ডিআইএফইর আওতায় চলা আরসিসির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ঐ প্রেক্ষাপটে আরএসসি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান ইত্তেফাককে বলেন, গার্মেন্টসহ সব ধরনের শিল্পকারখানার সংস্কার তদারকির দায়িত্ব সরকারি সংস্থার হাতেই থাকা উচিত। তবে অতীতে আরসিসি যেসব কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল নতুন কার্যক্রম যাতে ঐ ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়—সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।