টানা পতনের পর শেয়ারবাজারে গত দুই কার্যদিবস মূল্যসূচকে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও তা অব্যাহত থাকল না। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার ফের উভয় শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস বা শরিয়া সূচক ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে। সূচক কমেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই বর্তমানে বড়ো চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বেশি হারে বিক্রি করে দেওয়া, অপেক্ষাকৃত ভালো শেয়ারের অভাব আর তারল্যসংকটের কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজার থেকে বের হয়ে যাওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে ৪০৭ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৪টির, ২৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টির।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—ন্যাশনাল টিউবস, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, মুন্নু সিরামিক, ইউনাইটেড পাওয়ার, স্টাইল ক্র্যাফট, মুন্নু স্টাফলার, ওয়াটা ক্যামিকেল, বিকন ফার্মা, আইটিসি ও গ্রামীণফোন।
মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—আলহাজ টেক্সটাইল, জেমিনী সী ফুড, ওয়াটা ক্যামিকেল, ন্যাশনাল ফিড মিল, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ন্যাশনাল টি, আটিসি, মুন্নু স্টাফলার ও শমরিতা হসপিটাল।
অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে থাকা প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—ইউনাইটেড পাওয়ার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, জাহিন স্পিনিং, ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এমএল ডায়িং, কুইন সাউথ, কেপিসিএল, খান ব্রাদার্স পিপি, ফারইস্ট নিটিং ও সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।
অপরদিকে গতকাল সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭০৫ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। সিএসই সার্বিক সূচক ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২২৫ পয়েন্টে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৮৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।
