ভয় দেখিয়ে সিজার, পেটে গজ রেখে সেলাই, প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ভয় দেখিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করিয়ে পেটে গজ রেখে সেলাই করার ফলে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় একটি ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে রোগীর স্বজনরা। গতকাল সোমবার দুপুরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, গ্লাস, দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনার পর ঐ ক্লিনিকের লোকজন সব পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোনারগাঁও থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদিপুর গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী আমান্তিকা সন্তানসম্ভবা হলে তাকে নিয়মিত চিকিত্সার অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকালে ঐ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঐ ক্লিনিকের চিকিত্সক ডা. নূরজাহান বেগম ঐ দিনই রোগীকে মা ও সন্তান উভয়ের ‘মৃত্যুর ঝুকির’ ভয় দেখিয়ে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দেন। তিনি নিজেই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করান। এ সময় আমান্তিকা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তাড়াহুড়া করে সিজারের পর ঐ রোগীর পেটে গজ কাপড় রেখেই ডা. নূরজাহান কাটা স্থান সেলাই করে দেন। সিজারের পর রোগীর অনবরত বমি ও পেটে অস্বস্তি তৈরি হয়ে পেট ফুলে যায়। পুনরায় তাকে ঐ ডাক্তারের কাছে নিয়ে  গেলে তিনি নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ডাক্তার নূরজাহান কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় ঐ রোগীর অস্ত্রোপচার করার সময় তার জরায়ু কেটে ফেলেন। অবস্থার অবনতি হলে কেয়ার হাসপাতাল থেকে ঐ গৃহবধূকে ঢাকার গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। আমান্তিকার স্বামী মো. পিন্টু মিয়া বলেন, বিয়ের এক বছরের মাথায় ডাক্তারের ভুল চিকিত্সার জন্য তার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। আর তিন দিনের মাথায় তার শিশুকন্যা মাতৃহারা হলো।

গৃহবধূর বাবা সোহেল মিয়া বলেন, শুক্রবার আমার মেয়েকে সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ঐ ডাক্তার ভয় দেখিয়ে বলেন, জরুরি সিজার না করলে মা ও পেটের সন্তান দুই জনেই মারা যাবে। ডাক্তাররা যখন এমন কথা বলে তখন আমরা বিশ্বাস না করে পারি না কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে স্রেফ বাণিজ্য করার জন্য তিনি এই ভয় দেখিয়েছিলেন। অন্যায়ভাবে টাকা কামানোর জন্য মানুষ এতটা নির্মম হতে পারে এটা তার ধারণাতেও ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুল চিকিত্সায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর হয়েছে। বিক্ষুব্ধ স্বজনদের পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।