জলাশয় যেন পদ্ম ফুলের বিছানা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

শরতে নানা রঙে সুশোভিত জলাশয়। প্রকৃতিও সেজেছে অপরূপ সাজে। ভাসছে রকমারি পদ্ম ফুল। আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা, ডানা মেলে উড়ছে বালি হাঁস আর নানা জাতের পাখি। বিস্তীর্ণ জলাশয় যেন গোলাপি, হলুদ ও সাদা রঙের পদ্ম ফুলের বিছানা। বাতাসে দোল খাওয়া পদ্ম ফুলের এমন অপরূপ দৃশ্য দেখতে কার না মন চায়। তাই তো আশপাশের এলাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকে শিশু-কিশোর ও নানা বয়সের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষজন ছুটে যান ঐ জলাশয় এলাকায়। সেখানে প্রকৃতি যেন তার ভালোবাসা আপন মহিমায় বিলিয়ে দিচ্ছে অবিরাম। এ নজরকাড়া দৃশ্য কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণগ্রাম এলাকার একটি জলাশয়ের।

সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঐ জলাশয়ে সৌন্দর্য ছড়িয়েছে তিন রঙের পদ্ম ফুল। গোলাপি, সাদা আর হলুদ পদ্ম দখিনা বাতাসে দোল খাচ্ছে। পদ্ম ফুলে ভরা জলাশয়ের ওপর আকাশে ডানা মেলে উড়ছে বালিহাঁস ছাড়াও নানা প্রজাতির প্রাণি। পাখ-পাখালির কিচিরমিচির আওয়াজে মুগ্ধ আশপাশের শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবকসহ বয়োবৃদ্ধরা। স্থানীয় লোকজন জানান, কমপক্ষে ১০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তীর্ণ এই জলাশয়ে প্রকৃতির আপন খেয়ালে এই ফুলের জন্ম। এ বছর অধিকমাত্রায় ফুল ফুটেছে। জলাশয়ে পানি বেশি থাকায় এ বছর এখানে কৃষকদের জমিতে ধানসহ অন্যান্য শস্যের চাষ হয়নি। তাই আপন শক্তিতে পদ্মরা বেড়ে উঠে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে উদার হাতে। কথা হয় আজাদ, বাতেন, জালালসহ কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে। তারা জানায়, ভোরে জলাশয়ের আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোররা ঘুম থেকে উঠে কেউ কেউ জলাশয়ে পৌঁছে যায় এবং নৌকায় করে জলাশয়ে ঘুরে মনের উচ্ছ্বাসে নানা রঙের পদ্ম তুলে নেয়। তারা জানায়, প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকালে ভ্রমণপিপাসু লোকজন জলাশয় এলাকায় প্রাণের আনন্দে পদ্ম ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকেন। ঐ এলাকার প্রবীণ শিক্ষক মো. মকবুল হোসেন ভুঁইয়া জানান, ‘শরতে প্রাকৃতিকভাবে এ জলাশয়ে অপার সৌন্দর্যে পদ্ম ফুল ফুটে—এ দৃশ্য দেখার জন্য দূর-দূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় জমায়। রাতে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শোনা যায়। সেখানে যখনই যাই, প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ জলাশয় বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্যের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।’ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পদ্ম ফুল রাতে ফোটে, দিনের রৌদ্র প্রখর না হওয়া পর্যন্ত প্রস্ফুটিত থাকে। বর্ষা মৌসুমে ফুল ফোটা শুরু হলেও শরতে অধিক পরিমাণে ফোটে এবং হেমন্ত পর্যন্ত ফুটতেই থাকে। এই ফুল মানবদেহের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। রক্ত আমাশয় ও চুলকানি নিরাময়সহ দেহের পুষ্টির জন্য এটি বেশ উপকারী।’ বুড়িচং উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতানা ইয়াসমিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘পতিত জলাশয়ে পদ্ম ফুল ফোটে। এই জলাশয়ের পদ্ম ফুলের বর্ণিল রূপ প্রকৃতিপ্রেমী মানুষজনকে মোহিত করছে। বাণিজ্যিকভাবেও এর বেশ কদর রয়েছে, স্থানীয় এলাকার কৃষকেরা উদ্যোগী হলে এর চাষের ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা থাকবে।’