নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরের মধ্যেই বাল্যবিয়ের মতো বেআইনি কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী সেখানে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ঐ মেয়েটি নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসতে চাইলেও তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে বলে মেয়ের পরিবারের অভিযোগ। মেয়েটির বাড়ি উপজেলার চকাদিন গ্রামে। তার বাবা প্রবাসী বাবু হোসেন। মেয়েটি ত্রিমোহানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। প্রায় ২০ দিন আগে বাল্যবিয়ের ঘটনাটি ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মেয়ের মা লাকী বেগম বলেন, উপজেলার লোহাচড়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম (মোমিন) আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হয়। এই সূত্র ধরে তার ছেলে দিপু মাঝে-মধ্যে আমাদের বাড়িতে আসত। কিন্তু আমার মেয়ের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। আমার মেয়েও এই বিষয়ে কখনো আমাকে কোনো কিছু বলেনি। সম্প্রতি অন্য স্থানে মেয়ের বিয়ের কথা চলছিল। এর মধ্যে গত ১৯ আগস্ট স্কুল থেকে আসার সময় আমার মেয়েকে দিপু জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার দুই দিন পর গত ২১ আগস্ট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছেলের প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের দিনেও মেয়ের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমন কি মেয়ের জন্মনিবন্ধনের কার্ড আমার কাছ থেকে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। বিয়ের একদিন পর মেয়ে ফোনে ম্যাসেজের মাধ্যমে আমাকে জানায় যে, তাকে বিয়ে করার জন্য জোরাজুরি করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে তাকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছে। আমার মেয়ে এখন কোথায় আছে তাও আমাকে জানানো হয়নি। আমার মেয়ে বাড়ি ফিরতে চায়, পড়ালেখা করতে চায় কিন্তু দিপু তাকে ঢাকায় জোর করে আটকে রেখেছে। এতে করে আমার মেয়ে যে কোনো সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে। ছেলেরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা আইনের আশ্রয় নিতে পারছি না। আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। আমাকে যদি ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিষয়টি জানানো হয় তাহলে আমি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
