বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এমনকি পরবর্তীকালে এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই এদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেন এবং এরশাদকে গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এখন এরশাদের মৃত্যুর পর রওশন এরশাদ হয়েছেন সংসদে গৃহপালিত বিরোধী নেতা। গতকাল সোমবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে প্রায়ই অসত্য কথা বলেন। ইতিহাস যার সাক্ষ্য দেয় না। বরং সত্য হচ্ছে এটাই, একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে (আবদুস সাত্তার) সরিয়ে এরশাদ যখন রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন, তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি’। অর্থাত্ তিনি ‘অখুশি নন’। পরবর্তীকালে তার কাজেকর্মে আমরা সেটাই দেখতে পারি। এরশাদের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া কোনোভাবেই জড়িত কিংবা সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই এই দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেন এবং মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। বরাবরই তিনি এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে জোট করেছেন। তাদেরকে বিরোধী দলে বসিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম সেনানী—যিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই খালেদা জিয়াকে সরকার বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। তিনি আজ অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা আশা করি, সম্মিলিত আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।
মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর জাহান ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি জেবা খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মেহেরুন্নেসা হক, সাধারণ সম্পাদক আমেনা খাতুন, যুগ্ম-সম্পাদক রাবেয়া আলম, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রাজিয়া আলিম প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
