ভিক্টর পরিবহনের বাসচাপায় সংগীত পরিচালকের মৃত্যু

মালিক ও চালককে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৯

উত্তরায় সংগীত পরিচালক পারভেজ রব বাস চাপায় নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস ও এর চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপরদিকে একই পরিবহনের আরেকটি বাসচাপায় আহত রবের ছেলে আলভী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। নিহত সংগীত পরিচালক পারভেজ রবের ভায়রা ভাই ও বাসচাপায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন আলভীর খালু বাবুল হোসেন গতকাল বলেন, দুটি প্রাণের দাম কি মাত্র দেড় লাখ! তারা কী করে এই সামান্য টাকা আমাদের অফার করলো! তাদের কী বিবেকও নেই। একটি পরিবারের দুজন সদস্যের একজন নেই, আরেকজন মৃত্যু শয্যায়। এখন পুরো পরিবারটিই শেষ হয়ে গেল-বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি। গত ৫ সেপ্টেম্বর তুরাগে ভিক্টর পরিবহনের বাসের চাপায় নিহত হন পারভেজ রব। এর দুইদিন পর একই পরিবহনের বাসে গুরুতর আহত হন তার ছেলে আলভী। একই ঘটনায় সেদিন বাসের চাপায় মৃত্যু হয় কলেজ ছাত্র ও আলভীর বন্ধু মেহেদী হাসান ছোটনের।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল তুরাগের ধউর এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিক্যালের সামনে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন থেকে তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহত পারভেজ রবের ভায়রা ও আলভীর খালু বাবুল হোসেন বলেন, আমরা মামলা করেছি এবং তাদের প্রস্তাবে রাজি হইনি বলেই এমনটি করা হয়েছে। একটি পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলো। তিনি জানান, আলভী পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। তার চিকিত্সার জন্য প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। এই টাকা বহন করাও কঠিন তার পরিবারের পক্ষে। কারণ আলভীর বাবা তেমন কিছু অর্থকড়িও রেখে যাননি। একই পরিবহনে চাপায় বাবার মৃত্যু ও ছেলে আহতের ঘটনায় তারা কোনোভাবে সামান্য টাকায় সমঝোতা করতে চান না বলেও জানান। 

পুলিশের উত্তরা পশ্চিম বিভাগের সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার বলেন, আমরা মালিক ও চালককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তুরাগ থানার ওসি নুরুল মুত্তাকিন বলেন, আমরা চালককে ধরার চেষ্টা করছি। মালিক পক্ষকেও খুঁজে পাচ্ছি না। বিআরটিএ-তে আবেদন করা হয়েছে।