ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকারের পদত্যাগের ঘোষণা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৩৪

ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগাম নির্বাচন হলে তিনি শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। আর না হলে আগামী ৩১ অক্টোবর বিদায় নেবেন তিনি। পার্লামেন্টে পাস হওয়া চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিলে গতকাল স্বাক্ষর করেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এদিকে পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আগাম নির্বাচনের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো গতকাল ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী এমপিরা নির্বাচনের বিপক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। খবর বিবিসি, সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের

গতকাল ছিল হাউজ অব কমন্সের চলতি অধিবেশনের শেষ দিন। আগাম নির্বাচনের ইস্যুতে ভোট হওয়ার কথা। এর আগে দুটি জরুরি বিষয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি ছিল চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের নথিপত্র প্রকাশ করা। এমপিরা সরকারকে এসব নথি দ্রুত জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ৩১১-৩০২ ভোটে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পক্ষ-বিপক্ষের এমপিদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। গতকাল রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিতর্ক চলছিল।

স্পিকারের পদত্যাগের ঘোষণা

হাউজের স্পিকার জন বারকো জানিয়েছেন, আগাম নির্বাচন হলে তিনি এখনই পদত্যাগ করবেন। আর না হলে আগামী ৩১ অক্টোবরই হবে তার শেষ কর্মদিবস। তিনি এমপি হিসেবেও পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ওই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কথা। বারকো বলেন, গত দশ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করতে পেরে গর্ববোধ করছি। ২০০৯ সালে মাইকেল মার্টিন মারা যাওয়ার পর স্পিকারের দায়িত্ব পান বারকো। ব্রেক্সিটবিরোধীদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনে ব্রেক্সিটপন্থিরা স্পিকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। যদিও স্পিকার সবগুলো অস্বীকার করেছেন। ডেপুটি স্পিকার লিন্ডসে হোয়েলি স্পিকার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

রানির স্বাক্ষর

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ গতকাল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হওয়া চুক্তিহীন ব্রেক্সিটবিরোধী বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে এটি আইনে পরিণত হলো। আগাম নির্বাচনের ভোটে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পাস না করতে পারলে তাকে ইইউর কাছে ব্রেক্সিটের সময়সীমা ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী সেটি করবেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রীরা বলছেন, সরকার অবশ্যই আইন মানবে। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় দৃষ্টি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা আলোচনা করছেন, আইনের আওতায় থেকেই কিভাবে পার্লামেন্টকে উপেক্ষা করা যায়। তাদের পরিকল্পনার আওতায় ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চিঠিতে জানানো হবে যে ব্রিটিশ সরকার ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়াতে চায় না।

স্থগিত হয়ে গেল পার্লামেন্ট

ধারণা ছিল, পার্লামেন্টে সবক’টি বিলে হারার পর সরকার হয়তো পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। কিন্তু গতকাল ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে, সোমবারের পর পার্লামেন্ট স্থগিত থাকবে। আগামী ১৪ অক্টোবর রানির ভাষণের মাধ্যমে নতুন অধিবেশন শুরু হবে। এই সময় পর্যন্ত এমপিদের পক্ষে কোনো সক্রিয় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার বিকল্প নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত জনসন কোনো প্রহণযোগ্য বিকল্প পেশ করতে না পারলেও তিনি আগামী ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই প্রশ্নে বোঝাপড়ার আশা প্রকাশ করেছেন। ভারাদকার অবশ্য দ্রুত কোনো সমাধানসূত্র আশা করছেন না বলে জানিয়েছেন।