দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক’র সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেছেন, ‘আইন আর শাস্তি দিয়েও দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার থেকেই অসদুপায় অবলম্বনে অনুপ্রাণিত করে। তাই আমরা নিজেরা সোচ্চার না হলে দুর্নীতি কমবে না’। সচিব বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল শুধু সরকারি-কর্মচারীদের জন্য নয়। এটা সবার জন্য। তিনি গতকাল বুধবার সকালে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দুদকের ‘গণশুনানি’তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
‘নাগরিক সেবা ও সুবিধাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যাদি শ্রবণ ও নিষ্পত্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুদক এ গণশুনানি’র আয়োজন করে।
দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘মানুষের আগ্রহের কারণে অভিযোগ নিতে হটলাইন (১০৬) নম্বর চালু কারেছি। এতে যে কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। এছাড়া ডাকযোগেও অভিযোগ গ্রহণ করি। দুদক বেনামি পিটিশন ফেলে দেয় না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিই’।
গণশুনানিতে বাছাই করা ১৮টি অভিযোগের শুনানি হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র পাঁচটির অভিযোগকারী গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। আর ১৩টিই ছিল বেনামী। এরমধ্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৮-১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘সোলার প্রজেক্ট’র সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৭-১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, লাইসেন্সপ্রাপ্তিতে ‘বিআরটিএ’র ঘুষ গ্রহণ, পেনশন প্রাপ্তিতে ২% হিসাবরক্ষণ অফিসে উেকাচ গ্রহণ, পিআইও, এলজিইডি, বিদ্যুত্ বিভাগ, হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি সেবাখাতের অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন সচিব।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শতরুপা তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গনশুনানিতে আরো বক্তব্য রাখেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাহমুদ হাসান, রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শারমিন আলম, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান সামশুদ্দোহা চৌধুরী ও সহকারী পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার। পরে দুদক সচিব কাউখালীর ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন করেন।
