চট্টগ্রামে মাঝারি শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ছে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৫

মাঝারি আকারের শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিদেশ ফেরত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান ও চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত প্রবাসী তরুণ উদ্যোক্তার সংখ্যা বেশি বলে জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বনেদি শিল্প পরিবারের তরুণরা তাদের পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি নিজেই নতুন খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে। চট্টগ্রামে প্রতি মাসে এই ধরনের ১৫/২০টি বিনিয়োগ নিবন্ধন হচ্ছে। এসব উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১০০ থেকে ৪০০ কোটির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া চীন, কোরিয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত ও ভিয়েতনামের যৌথভাবে নতুন খাতে বিনিয়োগের জন্য শিল্পের নিবন্ধন নিচ্ছে।

বিটা চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় বিনিয়োগ ৬৭টি। আর বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে ১৪৮৭২ দশমিক ২৬২ মিলিয়ন টাকা। বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ পাঁচটি। এসব বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫৬ দশমিক ৮০৪ মিলিয়ন টাকা। আর ৮০টি প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানার পরিধি বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্তির জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। এদের নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৮৫৬ দশমিক ৯৪২ মিলিয়ন টাকা।

বিডা চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানায়, অবকাঠামোগত নানা সুবিধার কারণে বিনিয়োগকারীরা সর্বপ্রথম চট্টগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অবস্থানের কারণে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি উত্পাদন বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইটেমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিবন্ধিত বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল সার্ভিসিং এন্ড রিপেয়ারিং, মিসলেনিয়াস প্রোডাক্টস, হার্ডওয়ার এন্ড টুলস, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, চাপাতা প্যাকেটজাতকরণ, মত্স্য আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণ, ইলেকট্রনিক্সসামগ্রী সংযোজন, অ্যালুমিনিয়াম, ড্রেজিংখাত, ফুড, এলইডি বাল্ব, হেলথ সার্ভিস, শিপ বিল্ডার্স, বিদ্যুত্, রি-রোলিং মিল, কন্টেইনার ডিপো ও স্টীল মিল ইত্যাদি। এদের মধ্যে ১০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ বেশি দেখা যাচ্ছে। বড়ো বিনিয়োগের মধ্যে জয়েন্টভেঞ্চারে রয়েছে।

নিবন্ধিত মাঝারি ধরনের বিনিয়োগের মধ্যে বেশিরভাগ শিল্পের জন্য গ্যাসের প্রয়োজন হচ্ছে না। শুধু বিদ্যুত্ সংযোগের প্রয়োজন। পিডিবি জানায়, দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন বেড়েছে। ফলে সংযোগ নিয়ে আগের মতো দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে না।

পিডিবি (বিতরণ) চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন ইত্তেফাককে বলেন, শিল্পে দ্রুত সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সম্পন্ন থাকলে ১০/১২ দিনের মধ্যে শিল্পে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা শিল্পোদ্যোক্তাদের বিদ্যুত্ সংযোগ নিতে উত্সাহ দিচ্ছি। আমার জোনে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছে। আগামী ৩০/৩৫ সালের মধ্যে দৈনিক চাহিদা ৫ হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়াবে।’

চট্টগ্রামে অনেক বনেদি শিল্পোদ্যোক্তা রয়েছে। অনেকের দেশজুড়ে নাম ডাক রয়েছে। এসব শিল্প পরিবারের ছেলেমেয়েরা বিদেশ থেকে পড়ালেখা করে এসে পূর্ব পুরুষের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব তরুণরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন খাতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের পাশাপাশি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে চট্টগ্রামের অনেকেই প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছে। তারা সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে নানা সমস্যা ও আয়ের সুবিধা কমে যাওয়ায় দেশে চলে আসছে। বিদেশ ফেরত এসব ব্যক্তিরা দেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে জানান বিডার কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা দেশে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুবাই ফেরত ব্যক্তি বেশি। পাশাপাশি দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তারাও স্বল্প বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসছে। তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১০০ থেকে ৪০০ কোটির মধ্যে। এ ধরনের বিনিয়োগের নিবন্ধন বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরাও তাদের উত্সাহ যোগাচ্ছি। এখানে সমুদ্রবন্দর থাকায় ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জয়েন্টভেঞ্চারে বিনিয়োগ নিবন্ধিত হচ্ছে।’

দীর্ঘদিন যাবত্ অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেই নতুন প্রতিষ্ঠান করার চেষ্টা করছেন এ ধরনের লোক অনেক রয়েছে।

জসিমউদ্দিন নামে এক বিনিয়োগকারী ইত্তেফাককে বলেন, আমি অনেক বছর চাকরি করেছি। এখন নিজে একটি প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নিয়েছি। গার্মেন্টস এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠানে গার্মেন্টসের প্যাকেজিং আইটেমসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি হয়ে থাকে। এ ধরনের পণ্য আমদানি হলেও দেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান করতে সর্বনিম্ন ২ আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ লাগে। আইটেম বেশি হলে বিনিয়োগও বেশি করতে হয়।’