অপরাজেয় কথাশিল্পীর অজানা দিক

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৪

বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী লেখকের সংখ্যা হাতেগোনা। শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (জন্ম : ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬- মৃত্যু : ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩৮) সেই কালজয়ী লেখকদের একজন। ১৯১৩ সালে ‘বড়দিদি’ (বড়গল্প কিংবা উপন্যাসোপম বড়গল্প) প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তার আত্মপ্রতিষ্ঠার সূচনা ঘটে। তার আগে ছাত্রাবস্থায় তিনি গল্প লিখতে শুরু করেন। এ সময় কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কারের জন্য তিনি তার মামা সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে ‘মন্দির’ শীর্ষক একটি গল্প লিখে পাঠান। গল্পটি কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করে। তিনি বার্মায় থাকাকালে ১৩১৪  বাংলা সালে তার এক বন্ধুর (১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) ‘ভারতী’ পত্রিকায় বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় তিন সংখ্যায় ‘বড়দিদি’ ধারাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রথম দুই কিস্তিতে ইচ্ছা করেই সম্পাদক লেখকের নাম না দিয়ে শেষের কিস্তিতে তার নাম বেশ বড় করে দেন। জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখনি তাকে একজন প্রতিভাবান লেখক বলে বিবেচনা করেছিলেন। তারপর বার্মায় থাকাকালে তিনি কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘যমুনা’ পত্রিকার সম্পাদক ফণীন্দ্রনাথ পালের অনুরোধে ‘রামের সুমতি’ নামে একটি গল্প লিখে পাঠান। তা ঐ পত্রিকার  বাংলা ১২১৯ সালের (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) ফাল্গুন ও চৈত্র সংখ্যায় দুই কিস্তিতে প্রকাশিত হয়। 

এ গল্পটি তাকে একজন শক্তিমান লেখক হিসেবে পাঠকমহলে পরিচিত করে। এরপর একাধিক পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। উল্লেখ্য, দারিদ্র্যের কারণে ১৯০৩ সালে তিনি একটি অস্থায়ী চাকরি নিয়ে বার্মার রেঙ্গুন চলে যান। ১৯১৬ সালে একেবারে দেশে ফিরে আসেন। তারপর তিনি পুরোপুরি লেখায় নিয়োজিত হন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তিনি ৪ খণ্ডে ‘শ্রীকান্ত’সহ ২০টি উপন্যাস ও বড় গল্প, ১১টি ছোট গল্পগ্রন্থ, ৩টি নাটক ও অন্যান্য কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। (৩) জীবিতাবস্থায়ই তিনি ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’, ‘সাহিত্য সম্রাট’ হিসেবে আখ্যায়িত হন। বাংলা কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তিনি অনন্যস্থানে অধিষ্ঠিত। পল্লিবাসী বৃহত্তর হিন্দুসমাজের সাধারণ মানুষের দুঃখ, কষ্ট, মর্মবেদনা, সমাজপতিদের অত্যাচার, অনাচারসহ সার্বিক জীবনচিত্র তিনি তার সাহিত্যে তুলে ধরেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শরত্চন্দ্রের মৃত্যুসংবাদ শুনে বলেছিলেন—‘যিনি বাঙালীর জীবনের  আনন্দ ও বেদনাকে একান্ত সহানুভূতির দ্বারা চিত্রিত করেছেন, আধুনিক কালের সেই প্রিয়তম লেখকের মহাপ্রয়াণে দেশবাসীর সঙ্গে আমিও গভীর মর্মবেদনা অনুভব করছি’।

মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার চিত্র সাহিত্যের মাধ্যমে তুলে ধরে শরত্চন্দ্র পাঠকদের মন জয় করেছিলেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট হূদয় দিয়ে উপলব্ধি না করলে তাকে সাহিত্যের বিষয় করা যায় না। তার মন ছিল অত্যন্ত কোমল। মানুষ বা প্রাণীর কষ্টে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। চেষ্টা করতেন কিছু করার। তবে যা করতেন নীরবে, ঢাকঢোল পিটিয়ে নয়। প্রচার করে, সকলকে জানিয়ে নাম কেনার, খ্যাতি লাভ করার প্রবৃত্তি তার ছিল না। তার জীবনের নানা ঘটনায় এর পরিচয় মেলে।

লেখক মনোজিত্ বসু শরত্চন্দ্রের জীবনের একটি ঘটনার কথা লিখেছেন। তিনি তখন রেঙ্গুনে চাকরিরত। সেখানে সব বাড়িই ছিল কাঠের। একদিন রাতে তার বাসার পাশে ধোপার ঘরে কীভাবে যেন আগুন লাগে। সে আগুন তার বাসায়ও ধরে যায়। শরত্চন্দ্র সে সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। লোকজনের চিত্কারে তিনি জেগে ওঠেন। বাসার লোকজন ও পোষাপাখিগুলো দ্রুত নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি তার বই-খাতাগুলো বাঁচাতে লেগে যান। অতি প্রয়োজনীয় ও দুর্লভ বইগুলো একটি ট্রাংকে ভরে নিচে নামতে গিয়ে দেখেন কাঠের সিঁড়িতে আগুন ধরে গেছে। তিনি ট্রাংকটি নিচে ফেলে দিয়ে আগুনে জ্বলতে থাকা সিঁড়ির একপাশ ধরে কোনোরকমে নেমে আসেন। এ সময় শুনতে পেলেন যে ধোপা লোকটি তার বাসা থেকে গাধাটিকে বের করে এনেছে, কিন্তু পোষা ছাগলের বাচ্চাটিকে আনতে পারেনি। তা শুনে শরত্চন্দ্র ছুটলেন সেই আগুনে জ্বলতে থাকা ঘরের দিকে। কারো বাধাই তিনি মানলেন না। শেষ পর্যন্ত  ছাগলের বাচ্চাটিকে কোলে করে তিনি ফিরে এলেন। আর তখনি জ্বলন্ত ঘরটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি।  

সাহিত্যিক-সম্পাদক জলধর সেন একটি ঘটনার কথা বলেছেন। শরত্চন্দ্র হাওড়ার শিবপুরে বাস করার সময় তিনি প্রায় প্রতি রবিবারেই তার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। এ রবিবারে গিয়ে দেখেন শরত্চন্দ্রের বসার ঘরে একরাশ ধুতি-শাড়ি ছড়ানো। তার চাকর সেগুলো বাঁধার জন্য গোছ করছে। আর শরত্চন্দ্র টেবিলে বসে আনি,  দুই আনি, সিকি আলাদা করছেন। জানতে পারলেন, শরত্চন্দ্র এগুলো নিয়ে একটু পরই ট্রেনে তার দিদির বাড়ি যাবেন। কিন্তু এসব নিয়ে কেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুই বলতে চাইলেন না। অনেক পীড়াপীড়ি করার পর শরত্চন্দ্র বললেন, দাদা, দিদির গাঁয়ের আর তার চারপাশের গাঁয়ের গরীব-দুঃখীদের যে কী দুর্দশা। তাদের পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই, চালে খড় নেই। সে যে কী...তার দুই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।  জলধর সেন লিখেছেন, ‘এই আমার শরত্চন্দ্র। এই শরত্চন্দ্রকে আমি ভালবাসি, ভক্তি করি।’

লেখিকা রাধারাণী দেবী শরত্চন্দ্র সম্পর্কে বলেছেন, ‘শরত্চন্দ্র অতি সহজ মানুষ ছিলেন। বাইরে জীবনযাত্রায়, আলাপে আচরণে এত বেশী সাধারণ যে অনেক সময় অনেকে বিখ্যাত লেখক শরত্চন্দ্রকে দেখে হতাশ হয়েই ফিরে গেছেন। অতি সাদাসিদা গ্রামীণ মানুষ। গ্রামের সবুজ স্নিগ্ধতা ছিল তাঁর হূদয়ে, আলাপে, আচরণে। কোনোখানে কিছুটা কৌতুকের রং চড়ানো।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘শরত্চন্দ্রের মধ্যে কোমলতা ছিল মাতৃহূদয়ের মত অকৃত্রিম এবং প্রগাঢ়। সত্যই এমন মমতা-কোমল মন সংসারে অল্পই দেখা যায়। কিন্তু তাঁর মধ্যে একটি ঋজু দৃঢ়তাও ছিল। সেখানে তিনি ছিলেন অনমনীয়। দেশকে ভালবাসতেন প্রাণ দিয়ে। ... কুসংস্কার, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, দারিদ্র, নিরন্নতা—এ নিয়ে তাঁর দুর্ভাবনা ও বেদনার সীমা ছিল না।’

রুবাইয়াতই-ওমর খৈয়ামের খ্যাতনামা অনুবাদক নরেন্দ্র দেব শরত্চন্দ্র প্রসঙ্গে বলেছেন, বার্মা থেকে এসে তিনি হওড়ার সামতাবেড় গ্রামে বাড়ি তৈরি করেন। সামতাবেড় দরিদ্র গ্রাম। এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না সহজে। শরত্চন্দ্র হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক চিকিত্সা যত্ন করে শিখেছিলেন দরিদ্রের সেবা করবার জন্য। গ্রামের যত চাষাভুষো, দীন-দরিদ্র, কুলি-মজুর সবার সঙ্গে তিনি ডেকে আলাপ করতেন। তাদের কুশল জিজ্ঞেস করতেন। ছেলে-মেয়ের অসুখ করেছে শুনলে চিকিত্সা করতেন। বিনামূল্যে ওষুধ দিতেন। কোনো দরিদ্র রোগীর পথ্য কেনার সামর্থ্য না থাকলে নিজব্যয়ে তাদের পথ্যেরও ব্যবস্থা করতেন।

একবার গ্রামের পথে একটি নেড়ি কুকুরের বাচ্চা তার সাথে সাথে অনেকদূর যায়। এতে বাচ্চাটির ওপর তার মায়া পড়ে যায়। অন্য পাড়ার কুকুররা বাচ্চাটিকে মেরে ফেলে এ আশঙ্কায় তিনি সেটাকে বাড়ি নিয়ে এসে যত্ন করে পোষেন। নাম রাখেন ভেলী। সেটি পরে বিরাট কুকুরে পরিণত হয়। তার জন্য কোনো অপরিচিত লোক তার বাড়িতে ঢুকতে পারত না। শরত্চন্দ্রের হুকুম পেলে তবেই সে তাকে ঢুকতে দিত। ভেলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তাকে পশু হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থান করে কুকুরটির সেবা করেন। কিন্তু ভেলী বাঁচেনি।  শরত্চন্দ্র ভেলীর মৃত্যুতে কেঁদেছিলেন। তার মৃতদেহ এনে তিনি বাড়িতে সমাধিস্থ করেন।

গ্রামের একটি মাদি কুকুর একবার তার বাড়িতে তিনটি বাচ্চার জন্ম দেয়। কুকুরটি সারাদিন গ্রামে ঘোরাঘুরি করলেও সময়মতো এসে বাচ্চাদের দুধ খাওয়াত। শরত্চন্দ্র এটা লক্ষ করেছিলেন। একদিন কুকুরটি দীর্ঘসময় এল না। বাচ্চাগুলো ক্ষুধায় কুঁইকুঁইকরছিল। তিনি বাটিতে করে দুধ নিয়ে তুলোর সলতে বানিয়ে বাচ্চাগুলোকে খাওয়াতে শুরু করলেন। তাদের জন্য কী যে মায়া ও যত্ন তার! এদিকে লোকজনকে বললেন কুকুরটিকে খোঁজার জন্য।  এজন্য দশ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করলেন। তখন দশ টাকা মানে অনেক টাকা। দুই দিন পর কুকুরটিকে পাওয়া গেল। গ্রামের নির্জন স্থানে একটি শুকনো কুয়োর মধ্যে যেন কীভাবে পড়ে গিয়েছিল সে, আর উঠতে পারেনি। তাকে তুলে নিয়ে এল লোকজন। মা হারা কুকুরছানাগুলো মাকে ফিরে পাওয়ায় তার মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। উদ্ধারকারীদের পনেরো টাকা বকশিস দিলেন তিনি।

একদিন শরত্চন্দ্র দেখলেন, কসাইরা দুটি ছাগলছানা বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো কেটে মাংস বিক্রি করবে তারা। তা দেখে তার কোমলপ্রাণ কাতর হয়ে উঠল। সেগুলোর মাংস বিক্রি করলে কসাইরা কত টাকা পাবে জেনে নিয়ে সেই টাকা তাদের দিয়ে ছাগলছানা দুটি বাড়ি নিয়ে যান তিনি। সেগুলো পরে বেশ বড় হয়ে ওঠে।  তিনি নিজেহাতে তাদের খাওয়াতেন। তার সারাবাড়িতে তারা ঘুরে বেড়াত। তাদের নামও দিয়েছিলেন তিনি। সে নাম ধরে ডাকলেই ছাগল দুটো দৌড়ে তার কাছে চলে আসত। তিনি বলতেন, এরা বোকা পাঁঠা নয়—এদের মত চালাক পশু আমি কমই দেখেছি।

নরেন্দ্র দেব তার জীবনের আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। একবার তিনি নরেন্দ্র দেবের বাড়িতে গল্প করে রাত সাড়ে বারোটার দিকে বের হলেন। তারা স্বামী-স্ত্রী তাকে এগিয়ে দিতে পন্ডিতিয়ার মোড় পর্যন্ত এলেন। মোড়ের কাছে আসতেই এক মানবশিশুর করুণ কান্না শুনতে পেলেন তারা। পথের পাশ থেকে আসছিল সে কান্নার শব্দ। কৌতূহলবশত এগিয়ে গিয়ে তারা একটি গাছের নিচে একটি পুঁটলি দেখতে পেলেন। তার ভেতর থেকেই কান্নার শব্দ বেরিয়ে আসছিল। শরত্চন্দ্র পুঁটলি খুলে  ফেললেন। তার মধ্যে এক নবজাত শিশুকে দেখা গেল। কে বা কারা তাকে ফেলে দিয়ে গেছে। শিশুটির সারাগায়ে পিঁপড়ে কামড়াচ্ছে। তিনি বসে গেলেন সে পিঁপড়ে সাফ করতে। নরেন দেবের স্ত্রীকে বললেন বাড়িতে গিয়ে একটু দুধ বা মধু আর একটু তুলা নিয়ে আসতে। নরেন্দ্র দেব তাকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, আপনি কিন্তু পুলিশি ঝামেলায় পড়ে যাবেন। আপনাকে ধরে নেবে তারা। তিনি বললেন, চিন্তা করো না। পুলিশ না এলে আমিই তাদের খবর দেব। তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে যাও। তারা বাড়ি গিয়ে দুধ, মধু, তুলো নিয়ে ফিরে এসে দেখেন, তিনি ছেলে শিশুটিকে যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মায়ের মতো করে কোলে নিয়ে বসে আছেন। তারপর তুলোর পলতে দুধে ভিজিয়ে তার মুখে দিতে থাকলেন। নরেন্দ্র  দেবকে বললেন ফোন করে বালিগঞ্জ থানায় খবর দিতে। তিনি ভাগ্যক্রমে অতরাতেও খোলা থাকা একটি মিষ্টির দোকান থেকে থানায় ফোন করে ফিরে এলেন। দেখলেন, শরত্চন্দ্র তার স্ত্রীর সাহায্য নিয়ে নিপুণ ধাত্রীর মতো ফোঁটা ফোঁটা করে শিশুটিকে দুধ খাওয়াচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশের গাড়ি এসে শিশুটিকে নিয়ে যায়। তখন শরত্চন্দ্রের চোখে পানি। নরেন্দ্র দেব তার কারণ জানতে চাইলে বললেন, ‘শিশুগুলো জাদু জানে। এক দণ্ডে মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছিল।’

যামিনীকান্ত সেন লিখেছেন, ‘শরত্চন্দ্র রেখে ঢেকে কথা কইবার মানুষ ছিলেন না। তাঁর কোনো ঢং বা চাল দেখিনি আদপেই। তাঁর সঙ্গে বসে কথা কইলে, তাঁকে অসাধারণ মানুষ বলে বোঝা যেত না। অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি অসাধারণই ছিলেন।’

শরত্চন্দ্রের জীবনের সাহিত্যখ্যাতি ও সাফল্যের কথা শিক্ষিতজন সবারই জানা, কিন্তু অপরাজেয় কথাশিল্পীর কোমল  হূদয়ের এ দিক অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গেছে। এ শরত্চন্দ্র মহান ও অনন্য।

টীকা : ১. তবে প্রখ্যাত লেখক প্রমথ চৌধুরী বলেন, ‘মন্দির’ গল্পের লেখকের নাম ছিল না। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে লেখকের নাম শরত্চন্দ্র। —‘শরত্ প্রসঙ্গে’ (স্মৃতিচারণ)—প্রমথ চৌধুরী, ‘রবীন্দ্র-নজরুল-শরত্ স্মৃতিমাল্য’—সুজিত কুমার নাগ, কলিকাতা, ১৩৯৫। ২. শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত জীবনী, শরত্ রচনাবলীর বৈদ্যুতিন সংস্করণ। ৩. ঐ। ৪. উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ যদিও ‘বাঙালীর জীবনের আনন্দ ও বেদনা’ বলেছেন, বাস্তবে তা বাঙালি হিন্দুর জীবনের আনন্দ ও বেদনা বললেই সঠিক হয়। কারণ, একমাত্র ‘মহেশ’ গল্প ছাড়া শরত্চন্দ্র তার আর কোনো গল্প-উপন্যাসে বাঙালি মুসলমানের জীবনচিত্র এঁকেছেন বলে জানা যায় না।