স্মার্টফোনের দৈত্য

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৭

মিমি সবেমাত্র ক্লাস টু-তে পড়ে। স্মার্টফোনের সঙ্গে ভীষণ বন্ধুত্ব তার। ফোনে সে মজার মজার গেমস খেলে। আর ইউটিউবে কার্টুন দেখে। স্কুল থেকে ফিরেই মায়ের মোবাইলটা নিয়ে বসে পড়ে সে। তার সবচেয়ে প্রিয় গেম বাবল শুটার। শুটিংগান দিয়ে রঙিন বাবল শুট করতে তার বেশ লাগে। তারপর আছে টকিং টম। কী সুন্দর করে তার বলা কথাগুলো নকল করে! ফোনের স্ক্রিনে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে টকিং টমকে পেটানো যায়। আরো কতশত গেম খেলে সে মোবাইলে।

খেতে বসেও ফোনটা হাতে চাই মিমির। তখন সে ইউটিউবে কার্টুন দেখে। কখনো দেখে ইপিন উপিন। কখনো আবার জুলবেবির এপিসোড। কার্টুন না দেখে সে কিছুতেই খায় না। হাত-পা ছুড়ে কান্না করে। অগত্যা মামণিও বাধ্য হয়ে ফোনটা তাকে দেয়।

একদিন বিকেলে ছোটমামা বেড়াতে এলেন মিমিদের বাসায়। ছোটমামা থাকেন চট্টগ্রামে। এবার অনেকদিন পর এলেন। মিমি তো ছোটমামাকে দেখে ভীষণ খুশি। মামার হাতের নতুন ফোনটা দেখে বলল, ‘মামা তোমার ফোনটা দাওনা আমাকে।’ ছোটমামা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার ফোন দিয়ে তুই কী করবি?’ মিমি জবাবে বলল, ‘আমি খেলব ছোটমামা।’ ভাগ্নির কথা শুনে মামা তো পুরাই অবাক। বললেন, ‘তুই কোথায় আমার সাথে এখন গল্প করবি, তা না ফোনে গেম খেলতে চাচ্ছিস।’ মামণি বললেন, ‘মিমি তো সারাদিন ফোনেই পড়ে থাকে।’ সব শুনে মামা রেগে বললেন, ‘ছোটদের বেশি ফোন নিয়ে খেলা উচিত না, তাতে কিন্তু চোখে ব্যথা হয়, দেখতে অসুবিধা হয়।’ মামার কথায় কষ্ট পেল মিমি। সে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

হঠাত্ মিমি দেখতে পেল একটা প্রকাণ্ড স্মার্টফোন দাঁডিয়ে আছে তার সামনে। সেই স্মার্টফোনের আবার দুটো হাত আর দুটো পা আছে। লাল লাল চোখগুলো জ্বলছে। ইয়া বড়ো বড়ো দাঁত। মিমি ভয় পেয়ে বলল, ‘কে তুমি?’ ফোনটা জবাব দিল, ‘আমি স্মার্টফোনের দৈত্য। আমি এসেছি তোমাকে শাস্তি দিতে।’ মিমি ভয় পেয়ে গেল। বলল, ‘আমি কী করেছি যে তুমি আমাকে শাস্তি দেবে?’

ফোনের দৈত্য জবাব দিল, ‘তুমি সারাদিন আমার স্ক্রিনে খোঁচা দিতে থাকো তোমার আঙুল দিয়ে। আমার কি ব্যথা লাগে না? সারাদিন ইউটিউব বাজিয়ে আমার কান ঝালাপালা করে ফেলো। আমার কি মাথা ব্যথা করে না? এখন আমি তোমার চোখগুলো নষ্ট করে ফেলবো। তুমি আর ভালোমতো দেখতে পাবে না। এটাই হবে তোমার যোগ্য শাস্তি।’

মিমি ভয়ে কেঁদে ফেলল। অনুনয় করে বলল, ‘আমার চোখ নষ্ট হলে আমি দেখতে পাবো না দৈত্য। আমার চোখ নষ্ট কোরো না, প্লিজ প্লিজ প্লিজ...!’

মিমির মনে হচ্ছিল তাকে কেউ জোরে জোরে ধাক্কাচ্ছে। চোখ মেলে দেখল মামণি তাকে বলছে, ‘মিমি তাড়াতাড়ি ওঠো, স্কুলের সময় চলে যাচ্ছে।’

সেদিন কিন্তু মিমি খুব ভয় পেয়েছিল। আর তার চোখ একটু একটু ব্যথাও করেছিল। মিমি সেদিন থেকে আর কখনো ফোনে গেমস খেলেনি।